Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Tuesday, 28 Jul 2026 23:49
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: বিশ্বজুড়ে ক্রমে বিস্তৃত হচ্ছে ডিজিটাল অর্থনীতি। কভিড-১৯ মহামারী এ প্রক্রিয়াকে আরো ত্বরান্বিত করেছে। মানুষ এখন ঘরে বসেই সারছে কেনাকাটা। অনলাইনেই বুকিং দিচ্ছে ভ্রমণের টিকিট থেকে শুরু করে থাকা-খাওয়ার মতো পরিষেবাও। এ ডিজিটাল অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় (মেনা) দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ২০২৩ সালের মধ্যে মেনা অঞ্চলের ডিজিটাল অর্থনীতি ২০২০ সালের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি হবে। ভারতীয় গবেষণা সংস্থা রেডসিয়ারের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রেডসিয়ার জানিয়েছে, অনলাইন রিটেইল ও ভ্রমণ খাতের নেতৃত্বে মেনা অঞ্চলের ভোক্তা ডিজিটাল অর্থনীতি ২০২৩ সালের মধ্যে ১০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব। ২০২০ সালে মেনা অঞ্চলের ডিজিটাল অর্থনীতির মূল্যমান ছিল ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।

অঞ্চলটিতে রেডসিয়ারের অংশীদার সন্দ্বীপ গানেদিওয়ালা দ্য ন্যাশনালকে বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতি মূলধারার হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এ খাতগুলোর ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জেরও মোকাবেলা করতে হবে। এক্ষেত্রে ছাড়ের পাশাপাশি গ্রাহকদের আরো ভালো অভিজ্ঞতা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের অনলাইন কেনাকাটায় গ্রাহক স্থানান্তরকে ত্বরান্বিত করেছে কভিড-১৯ মহামারী। ফলে এ অঞ্চলের ই-কমার্স খাত দ্রুতগতিতে বাড়ছে। মার্কিন ব্যবস্থাপনা পরামর্শক সংস্থা বেইন অ্যান্ড কোম্পানি ও গুগলের গবেষণা অনুযায়ী, মেনা অঞ্চলে অনলাইন বিক্রি ২০১৭ সালে ৮৩০ কোটি ডলার ছিল। আগামী বছর এ বিক্রি তিন গুণ বেড়ে ২ হাজার ৮৫০ কোটি ডলারে পৌঁছবে।

রেডসিয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মধ্যে মোট ডিজিটাল লেনদেনের ৩৬ শতাংশ ভ্রমণ বুকিং, মুদির বাইরের কেনাকাটা ৪২ শতাংশ, খাদ্য ও পানীয় ১৩ শতাংশ এবং মুদি কেনাকাটার অংশীদারিত্ব হবে ৯ শতাংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব মেনা অঞ্চলের ডিজিটাল অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালক হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখবে। মেনা অঞ্চলের মোট ডিজিটাল অর্থনীতির ৭০ শতাংশই এ দুই দেশের দখলে থাকবে।

পরামর্শক সংস্থাটি বলেছে, বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের ৯০ শতাংশেরও বেশি গ্রাহক জানিয়েছেন, তারা অনলাইনে খুচরা পণ্য কিনেছেন। এ হার যেকোনো উন্নত দেশের তুলনায় বেশি। উন্নত দেশগুলোতে ডিজিটাল গ্রাহকের হার প্রায় ৭০ শতাংশ। আগামী দিনে অনলাইনে কেনাকাটা ও গ্রাহক উভয়ই বাড়বে।

মধ্যপ্রাচ্যের অনলাইন বিক্রিতে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য ৪০ শতাংশ ছিল। এটি এখন প্রায় ২০ শতাংশে নেমেছে। স্থানীয়করণ, আরো ডিজিটাল ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের কারণে দেশীয় অনলাইনে বিক্রি বাড়ছে। রেডসিয়ার বলেছে, অনলাইন কেনাকাটা আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ওপর গ্রাহকদের নির্ভরতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং স্থানীয়দের বিকল্প সরবরাহ করছে।

অনলাইনে খুচরা বিক্রি অঞ্চলটির ডিজিটাল অর্থনীতিতে ভবিষ্যতে অনেক বড় অবদান রাখবে। রেডসিয়ারের পরিসংখ্যান দেখায়, এ খাতের অবদান ২০১৯ সালে ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২০ সালে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গত বছর কভিডজনিত বিধিনিষেধে ভ্রমণ খাত স্থবির হয়ে পড়েছিল। আর এ খাতের বুকিংয়ের অভাবে ২০২০ সালে ডিজিটাল অর্থনীতির আকার সংকুচিত হয়েছে। ডিজিটাল অর্থনীতিতে অনলাইনে পণ্য ও পরিষেবা বিক্রির অবদান ২৭ থেকে ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

তবে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে অনলাইন কেনাকাটায় নাগরিকদের অংশগ্রহণে বৈষম্য থেকে গেছে। কারণ মেনা অঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো সহজলভ্য ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়েছে। এক্ষেত্রে ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ এ পরিস্থিতিকে পাল্টে দিতে পারে বলে উল্লেখ করেছে রেডসিয়ার।

(ডিএফই/০৭ জুলাই, ২০২১)