
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: মহামারীর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে মুসলিম প্রধান মধ্যপ্রাচ্যে অধিগ্রহণ ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়া বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধেই এর পরিমাণ বেড়েছে ৫৯ শতাংশ।
সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্যে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত বছরের শেষার্ধে এ অঞ্চলে যে পরিমাণ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল, তার চেয়ে এ বছরের চুক্তি সম্পাদনের সংখ্যা ৪৮ শতাংশ বেশি। এখন পর্যন্ত এ অঞ্চলে অধিগ্রহণ ও একীভূতকরণের সংখ্যা ৩০৭টি।
গবেষণায় বলা হয়, বছরের প্রথমার্ধে চুক্তিগুলোর মূল্য ছিল ৪ হাজার ৩০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চুক্তির এ মূল্য ৭ শতাংশ কম, যদিও গত বছরের শেষার্ধের সঙ্গে তুলনা করলে এটি উল্লেখযোগ্য বেড়েছে।
বাকের অ্যান্ড ম্যাকেঞ্জি হাবিব আল মুল্লার পার্টনার ওমর মোমানি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের অধিগ্রহণ ও একীভূতকরণের জন্য গত বছর সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ বছর ছিল। চলতি বছরও মহামারীসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার জন্য অধিগ্রহণ ও একীভূতকরণ কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্থিতাবস্থা লক্ষ করা গেছে। এখন এ খাতে চুক্তির মান ও ব্যাপ্তির ক্ষেত্রে বরং বেশ উন্নতি দেখা যাচ্ছে। মার্চে এ বছরের সর্বোচ্চ সংখ্যক ৭৫টি চুক্তি সম্পাদন হয়েছে। আবার আর্থিক দিক বিবেচনায় এপ্রিলে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে, যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯২০ কোটি ডলার।
জানা গেছে, এপ্রিলের চুক্তিগুলোর মধ্যে ছিল সৌদি আরামকোর ১ হাজার ২৪০ কোটি ডলারের ৪৯ শতাংশ শেয়ার বিক্রি। এ শেয়ার কিনেছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইআইজি গ্লোবাল এনার্জির নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম। মূল্যের দিক থেকে মিসর সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশ এবং চুক্তির সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয়। এ সময়ে দেশটিতে ১৮টি চুক্তি সম্পাদন হয়েছে।
ওমর মোমানি বলেন, ২০২১ সালের শুরুটা চুক্তির যে হার ও আর্থিক মানের হয়েছে, তাতে বোঝা যায় খাতটি আবার স্বরূপে ফিরে আসছে। মূলত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণটিকাদান কর্মসূটি ও অর্থনীতির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই এ শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের কারণ। আপাতদৃষ্টিতে মনে করা হচ্ছে, গোটা বছরটাই ভালো যাবে। বছর শেষে অধিগ্রহণ ও একীভূতকরণ খাত মহামারীসংক্রান্ত সব সমস্যাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে।
(এসএএম/০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১)