Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Tuesday, 28 Sep 2021 00:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্কঃ অনেকটা সফলভাবেই কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলা করেছে চীন। মহামারির বিপর্যয় কাটিয়ে শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি। নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ দিতে এবার দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এয়ার শোয়ের আয়োজন করেছে চীন। খবর রয়টার্স।

খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শহর জুহাইয়ে শুরু হচ্ছে দ্বিবার্ষিক এই এয়ার শো। এ আয়োজনে এভিয়েশন, মহাকাশ ও সামরিক খাতে চীনের স্বয়ংসম্পূর্ণতার বিষয়টি দেখা যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোভিডজনিত কারণে এ আয়োজন এক বছর পিছিয়েছে। এক বছর দেরিতে হলেও বিরাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে এয়ার শোয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) সিনিয়র ফেলো ডগলাস ব্যারি বলেন, এমন সময় চীন এয়ার শো আয়োজন করছে, যখন বৈশ্বিক এয়ার শোয়ের সময়সূচি বিঘ্নিত হয়েছে। চীন সম্ভবত এটা দেখাতে চাইছে যে, তারা কভিড-পরবর্তী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছে।

এই শোয়ের মাধ্যমে স্থানীয় মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারছে। পশ্চিমা সরবরাহকারী যেমন এয়ারবাস ও বোয়িং তাদের চীনভিত্তিক দল নিয়ে শোতে অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজের দেশের মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়নের দিকেও সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে চীন। কারণ তাদের সঙ্গে পশ্চিমের দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে।

মিসাইল প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সাবেক মিলিটারি কমেন্টেটর সং জংপিং বলেন, পশ্চিম থেকে ক্রমাগত হুমকির মুখে রয়েছে চীন। তাই নিজের সামরিক শিল্পসংক্রান্ত, উড়োজাহাজ চলাচল ও মহাকাশ সক্ষমতা উন্নত করার চেষ্টা করতে হবে দেশটিকে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ বেড়ে যাওয়ার কারণে বিদেশী পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোর কাজে অনেক বেশি জোর দিচ্ছে চীন। কমার্শিয়াল এয়ারক্রাফট করপোরেশন অব চীনের তৈরি সি৯১৯ মডেলের উড়োজাহাজটির চলতি বছরই ছাড়পত্র পাওয়ার কথা রয়েছে। এটি তৈরি করতে যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে তার বেশির ভাগই পশ্চিমা। তবে ধীরে ধীরে যেন চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এটি তৈরি করা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।

এখন পর্যন্ত শতাধিক উড়োজাহাজ প্রদর্শনীর জন্য নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে আছে নতুন প্রজন্মের যাত্রীবাহী রকেট ও উচ্চক্ষমতার রকেট উেক্ষপণে সক্ষম বাহনও। এছাড়া জে-১৬ যুদ্ধবিমানের জে-১৬ডি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সংস্করণটি এয়ার শোয়ের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করবে।

আবার এমন কিছু পণ্য প্রদর্শন করা হবে যেগুলো চীন রফতানি করতে চায়। যেমন এজি৬০০ মডেলের উড়োজাহাজ। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উভচর বাহন বলে ধরা হয়। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা একাধারে অগ্নি নির্বাপক ও সমুদ্রে উদ্ধারকারী হিসেবে কাজ করতে পারে।

মার্কিন এমকিউ-৯ রিপারের আদলে তৈরি উইং লুং টু মডেলের সশস্ত্র ড্রোন এরই মধ্যে বিক্রি শুরু হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের মতো দেশ এর ক্রেতা। এসবের মাধ্যমেই পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রিতে প্রতিযোগিতায় নামছে চীন। ফেইহং নামের নতুন ধরনের ড্রোনও তৈরির কাজ চলছে। এয়ার শো উপলক্ষে প্রস্তুত হচ্ছে হেলিকপ্টার ও নতুন প্রজন্মের স্টিলথ ড্রোন।

 

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//