Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Tuesday, 05 Oct 2021 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

গত বছরের শুরু থেকে কর্মী সংকট দেখা দেয় যুক্তরাজ্যজুড়ে। কভিড-১৯ মহামারীর পাশাপাশি ব্রেক্সিটের প্রভাব এ সংকটকে আরো ঘনীভূত করে। এরই মধ্যে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে জ্বালানি সংকট। কর্মী সংকটের প্রভাব থেকে বাদ যায়নি পরিবহন, কৃষি থেকে শুরু করে আতিথেয়তা পর্যন্ত কোনো খাতই। অর্থনীতির প্রতিটি অংশে ছড়িয়ে পড়া এ সংকট মধ্যম আকারের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫০০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর এ জরিপ চালানো হয়। জরিপে এক-চতুর্থাংশেরও বেশি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, কর্মীদের অভাব স্বাভাবিক স্তরের কাজের সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি মজুদ কমে যাওয়ায় সংস্থাগুলোর সরবরাহ চেইন ব্যাহত হচ্ছে ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ সংকট মোকাবেলায় কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ফলে ক্রিসমাসের কেনাকাটার মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জরিপের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বলেছে, তারা নতুন কর্মীদের আকৃষ্ট করার জন্য মজুরি বৃদ্ধি করছে এবং অন্যরা শ্রমিকদের প্রলুব্ধ করার জন্য অতিরিক্ত নানা সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে।

অ্যাকাউন্টিং ও পরামর্শক সংস্থা বিডিওর করা জরিপে বলা হয়েছে, এ সংকটে ভোক্তাদের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যবসায়ী বলেছে, এ সংকট মোকাবেলায় আগামী তিন থেকে ছয় মাস পণ্যের দাম বাড়াতে হবে। অনেক প্রতিষ্ঠান আবার দাম বাড়ানোর পরিবর্তে পণ্য ও পরিষেবার ধরনগুলো কমিয়ে এনেছে। এক-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠান এ পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে। আরো এক-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠান পরিস্থিতি আমূল উন্নতি না হলে আগামী মাসে একই পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে।

কর্মী অভাবের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা মহামারী ও ব্রেক্সিটকে দায়ী করেছে। ৩৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, আঞ্চলিক দক্ষ কর্মীর অভাব তাদের কর্মী নিয়োগের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।

বিডিও অংশীদার এড ডোয়ান বলেন, ব্রেক্সিট, সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত ও কভিডের দীর্ঘ প্রভাবের কারণে ব্রিটিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। মহামারীর চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করার পর সংস্থাগুলো পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হওয়ার আশা করেছিল। তবে এর পরই ব্রেক্সিটের কারণে ব্যবসায়ীরা নিজেদের আরো বড় ব্যাঘাতের মুখোমুখি হতে দেখেছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিটি খাতেই কর্মী ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

বড় ট্রাক বা লরিগুলোর চালক ঘাটতি এরই মধ্যে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। অন্যদিকে টেস্কোর মতো বড় কোম্পানিগুলো সতর্ক করেছে, শ্রমিক সংকট সুপার মার্কেটের তাকগুলো খালি করে দিতে পারে। পাশাপাশি ক্রিসমাসের কেনাকাটার মৌসুমের আগে আতঙ্কিত হয়ে মানুষ অধিক কেনাকাটায় ঝুঁকতে পারে। এক্ষেত্রে অভিবাসন নিয়ম শিথিল করা হলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ এ সুপারমার্কেট চেইন।

যদিও এরই মধ্যে কর্মী সংকট মোকাবেলায় জরুরি ভিসা চালু করেছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার। এ ভিসার আওতায় জ্বালানি পরিবহনের জন্য ৩০০ গাড়িচালক এখনই দেশটিতে যেতে পারবেন এবং মার্চের শেষ পর্যন্ত থাকার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি খাদ্য পরিবহনের জন্য ৪ হাজার ৭০০ গাড়িচালক অক্টোবরের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যে যেতে পারবেন এবং ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পাবেন।

তবে কেবল গাড়িচালক নন, দেশটির প্রতিটি খাতই কর্মী সংকটে ভুগছে। তাই সরকারের জরুরি ভিসা এ সংকট কমাতে খুব বেশি অবদান রাখবে না বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। যেমন বর্তমানে আতিথেয়তা খাতের প্রতি ছয়টি চাকরির একটি ফাঁকা রয়েছে। রেস্তোরাঁ, পাব ও বার শিল্পের ২০০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১৮ শতাংশ জানিয়েছে, তারা তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী নিয়োগ ও ধরে রাখতে সক্ষম হবে। এ হার তিন মাস আগে ৬৭ শতাংশ থেকে নাটকীয় পতন।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//