
আগামী বছরে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৫ শতাংশ। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (বিওই) এক শীর্ষ অর্থনীতিবিদ এ পূর্বাভাস দেন। উপকরণ ও শ্রমিকস্বল্পতায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ব্যাহত হওয়ায় এমনটা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। খবর সিএনএন বিজনেস।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া সাক্ষাত্কারে বিওই অর্থনীতিবিদ হাও পিল জানান, সামনের মাসগুলোতে ৫ শতাংশের উপরে মূল্যস্ফীতি থাকলে আমি অবাক হব না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেখানে ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে, তাতে আমরা খারাপ অবস্থাতেই আছি।
৪ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পলিসি মিটিংয়ে সুদহার নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। সেখানে তিনি সুদহার বৃদ্ধির পক্ষে ভোট দেবেন কিনা এ বিষয়ে মন্তব্যে অস্বীকৃতি জানান পিল। মূল্যস্ফীতি কমাতে এবং স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
২০২০ সালের সংকোচন থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পর বর্তমানে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। তবে আর্থিক পুনরুদ্ধার যে ঝুঁকির মুখে আছে সাম্প্রতিক কিছু উপাত্তে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি বেশ ঊর্ধ্বমুখী।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের (ওএনএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে আরো উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে। শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে টানা পাঁচ মাসের মতো খুচরা বিক্রি কমেছে যুক্তরাজ্যের। ১৯৯৬ সাল থেকে এ উপাত্ত রাখার শুরুর পর একটানা মাসের দিক থেকে এটা সর্বোচ্চ শ্লথগতি। খুচরা বিক্রির পাশাপাশি অন্যান্য খাতের বিক্রিও হতাশাজনক। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি এবং ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সদ্য ইইউ থেকে বেরিয়ে আসা দেশটি অর্থনৈতিক স্থবিরতায় প্রবেশ করতে পারে, এমন উদ্বেগ অনেক অর্থনীতিবিদের।
চলতি সপ্তাহে ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদরা এমন উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, অন্যান্য অর্থনীতির চেয়ে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে স্থবিরতার আশঙ্কা সর্বাধিক। বর্তমানে বিভিন্ন উপকরণস্বল্পতায় দীর্ঘমেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব রাখবে। তবে আশাবাদের জায়গা হলো, এ স্থবিরতা হয়তো ১৯৭০-এর দশকের মতো ভয়াবহ হবে না।
অর্থনীতিবিদরা আরো জানান, উপকরণ ও শ্রমস্বল্পতায় আগামী ছয় মাসের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত করবে। পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে উচ্চ জ্বালানি মূল্য। এতে গত আগস্টে সিপিআই মূল্যস্ফীতি যেখানে ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ, তা আগামী বছরের এপ্রিলে ৫ শতাংশে দাঁড়াবে।
ট্রাকচালকসহ অন্যান্য শিল্পসংশ্লিষ্ট খাতে তীব্র শ্রম সংকটের মুখে রয়েছে যুক্তরাজ্য। অনেক কারখানা শ্রমিক অধিক মজুরি দাবি করছেন, যা মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলছে। ইউরোপজুড়েই জ্বালানি মূল্য বেড়েছে। এতে বিভিন্ন পণ্যের উচ্চ মূল্যের ভার বহন করতে হচ্ছে ভোক্তাকেই।
ব্রিটিশ ভোক্তা পণ্য জায়ান্ট ইউনিলিভার বলছে, সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে তারা তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ।
বিওইর গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি গত সপ্তাহে জানান, ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্য নিয়ে অবশ্যই পদক্ষেপ নেয়া দরকার। তিনি আরো জানান, মূল্যস্ফীতিকে সাময়িক ঘটনা বলেই মনে করেন তিনি। কিন্তু জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে পূর্ব ধারণা থেকে মূল্যস্ফীতি বেশি দিনই স্থায়ী হবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
বিনিয়োগবার্তা/এসআর /