Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Tuesday, 26 Oct 2021 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

দুই দশক ধরে নিজেকে আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে হংকং। তবে শিগগিরই এ অঞ্চলের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে উঠতে পারে শহরটি। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল করলেও পিছিয়ে আছে চীন শাসিত অঞ্চলটি। এমনকি আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের প্রবেশে এখনো কোনো পরিকল্পনা নেই হংকংয়ের। এমন পরিস্থিতিতে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জোট হুঁশিয়ারি দিয়েছে, শূন্য-কভিড নীতি ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য কঠোর কোয়ারেন্টিন নীতিমালা হংকংয়ের আর্থিক কেন্দ্রের মর্যাদা হারানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে হংকং। এর মাধ্যমে কভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অনেকটাই সফল অঞ্চলটি। তবে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া কিংবা থাইল্যান্ড যেখানে বিধিনিষেধ শিথিল করে পুনরায় সীমান্ত খুলে দিচ্ছে, সেখানে হংকংয়ের বিধিনিষেধ শিথিলের কোনো পরিকল্পনাই নেই। স্থানীয় নেতারা বলছেন, তাদের মনোযোগ এখন হংকং থেকে মূল ভূখণ্ড চীনে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধগুলো শিথিল করা নিয়ে। 

বিশ্বের কয়েকটি বড় ব্যাংক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ওপর একটি জরিপ চালিয়েছে এশিয়া সিকিউরিটিজ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটস অ্যাসোসিয়েশন (এসিফমা)। জরিপে উঠে এসেছে, কভিডজনিত নিষেধাজ্ঞা শহরটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এ চ্যালেঞ্জের কারণে ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের কার্যক্রম ও কর্মী হংকং থেকে সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবছেন। পাশাপাশি তারা শহরটির বিধিনিষেধ প্রত্যাহার নিয়েও নানা অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, কখন এবং কীভাবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কোয়ারেন্টিন নীতিমালা প্রত্যাহার করা হবে, তা নিয়েও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

বিষয়টি নিয়ে এসিফমার প্রধান নির্বাহী মার্ক অস্টেন হংকংয়ের আর্থিক সচিব পল চ্যানের কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি বলেন, একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে হংকংয়ের মর্যাদা ক্রমবর্ধমানভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং ব্যবসায়ের একটি প্রধান স্থান হিসেবে তুমুল প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়েছে হংকং।

চিঠিটি চীনের সঙ্গে সীমান্ত খোলার তাত্ক্ষণিক লক্ষ্যের বাইরে হংকংয়ের ‘শূন্য সংক্রমণ’ কভিড-১৯ কৌশল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি রোডম্যাপ তুলে ধরে। পাশাপাশি কভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেয়াসহ একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে।

চলতি বছরের মাঝামাঝিতে হংকং থেকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরিত হওয়া ব্রিটিশ একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী বলেন, মহামারীর আগে আমরা নিজেদের হংকংভিত্তিক পরিবার মনে করতাম। তবে সেই ভাবনা এখন আর নেই। এখন আমরা হংকংয়ের চেয়ে সিঙ্গাপুরে ভালো ব্যবসায়িক সম্ভাবনা দেখছি।

আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সিঙ্গাপুর প্রায় এক ডজন দেশে কোয়ারেন্টিনমুক্ত ভ্রমণ বিস্তৃত করছে। সিঙ্গাপুর ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও থাইল্যান্ড কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল শুরু করেছে। হংকংয়ে যাওয়া ভ্রমণকারীদের এখন নিজস্ব খরচে দুই বা তিন সপ্তাহের হোটেল কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়। গত বছর চালু হওয়া এ বিধিনিষেধ এখনো চলমান রয়েছে। নীতিটি ২০২২ সাল পর্যন্ত চলবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

হংকংয়ের আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট টারা জোসেফ বলেন, পরিস্থিতি ক্রমেই অন্ধকার হয়ে আসছে। লোকেরা তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পর্যন্ত দেখা করতে পারছে না। এটি ব্যক্তিগত পর্যায়ে খুব কঠিন হয়ে উঠছে। অন্যদিকে ব্যবসায়িক পর্যায়েও এর প্রভাব মারাত্মক। প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লায়েন্ট হারাচ্ছে, যা ব্যবসায়ের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলছে।

আরো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, বিশ্বের অন্যান্য স্থানের সঙ্গে চলাচল শুরুর পরিবর্তে হংকংয়ের লক্ষ্য মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সীমান্ত উমুক্ত করা। চলতি মাসে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম বলেন, অবশ্যই আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ব্যবসা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে মূল ভূখণ্ড আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।  মহামারী শুরুর পর হংকংয়ে ১২ হাজার ৩০০ জন কভিড-১৯ সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। যদিও তাদের বেশির ভাগই বাইরে থেকে আসা। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত অঞ্চলটিতে কভিডে আক্রান্ত হয়ে ২১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিনিয়োগর্বাতা /এসআর /