Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Monday, 01 Nov 2021 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

আন্তর্জাতিক ন্যূনতম করপোরেট কর চুক্তির বিষয়ে একমত হয়েছেন বিশ্বের জি২০ জোটভুক্ত দেশগুলোর নেতারা। রোমে জোটের সম্মেলনে নেতারা একমত হন যে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের সবখানেই তাদের অর্জিত মুনাফার অন্তত ১৫ শতাংশ কর দেবে। খবর বিবিসি।

বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কম করের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের লভ্যাংশকে পুনর্বিনিয়োগ করছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় বহু আলোচনা-সমালোচনার পর এ সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর নেতারা।

আন্তর্জাতিক করহার ঠিক করার পাশাপাশি জি২০ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন ও কভিড-১৯ নিয়েও আলোচনা হয়। গত বছর মহামারী শুরুর পর এবারই প্রথম একসঙ্গে বসে কোনো আলোচনায় অংশ নিলেন জোটটির নেতারা। এ জোটে রয়েছে ১৯টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সব নেতাই সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। কেবল চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

করপোরেট করের ন্যূনতম হার ঠিক করে দেয়ার বিষয়টি প্রস্তাব করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে সম্মেলনের শেষ দিনে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। ২০২৩ সাল নাগাদ এটি কার্যকর হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ চুক্তিকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে করপোরেট করের বিষয়ে ক্ষতিকর প্রতিযোগিতার অবসান ঘটবে। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে তিনি আরো লিখেছেন, এ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও কর্মীরা লাভবান হবেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনেক বড় প্রতিষ্ঠানকেও আগের চাইতে বেশি কর দিতে হবে।

বহুল প্রত্যাশিত কপ২৬ সম্মেলনের ঠিক আগ মুহূর্তে শেষ হলো জি২০ সম্মেলন। ফলে জি২০ সম্মেলনের আলোচনা, সিদ্ধান্ত এসবের একটি প্রভাব পড়বে এ জলবায়ু সম্মেলনে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সামাল দেয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে যে বিভাজন বা মতবিরোধ রয়েছে, তার সমাধানেও কিছুটা প্রভাব পড়বে।

এর আগে দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি। সূচনা বক্তব্যে তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, একাকী পথ চলা কোনো বিকল্প হতে পারে না। আমাদের মধ্যে যে পার্থক্যগুলো আছে, সেগুলো কাটিয়ে উঠতে সবার একসঙ্গে কাজ করা উচিত।

দীর্ঘদিন ধরেই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো নিয়ে সতর্ক করে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা করেছেন তারা। জলবায়ু পরিবর্তনকে মানবসভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সভ্যতার পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জি২০ সম্মেলনে যেসব প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া। সব দেশের জন্য অর্থপূর্ণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জোটের দেশগুলোর নেতারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রতিশ্রুতির খসড়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ২০২৫ সাল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি খাতে বার্ষিক ১০ হাজার কোটি ডলার দিতে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান জানানো হবে, যা ব্যবহার করে উন্নয়নশীল দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করতে পারে। ২০০৯ সাল থেকেই যদিও এ প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে বড় অর্থনীতির দেশগুলো, যা এখনো পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি।

বিনিয়োগর্বাতা /এসআর /