Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Saturday, 06 Nov 2021 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশে সবুজ অর্থায়নের বর্তমান, সম্ভাবনা এবং করণীয়’ নিয়ে সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম)।

 

শুক্রবার (৫ নভেম্বর) বিআইসিএম এর নির্বাহী প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড মাহমুদা আক্তার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘উদীয়মান দেশগুলোতে টেকসই উন্নয়নঃ বাংলাদেশের কথা’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

 

এসময় তিনি বাংলাদেশে সবুজ অর্থায়নের চিত্র ও সম্ভাবনা নিয়ে বিআইসিএম এর পক্ষ থেকে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

 

লন্ডনে চলমান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক আয়োজিত রোড শো – এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় দুপুর ৩টায় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস স্কুলে এই সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।

 

সেমিনারে ড. মাহমুদা আক্তার তাঁর উপস্থাপনায় বাংলাদেশে সবুজ অর্থায়নের বর্তমান, সম্ভাবনা ও করণীয় বিস্তারিত তুলে ধরেন।

 

তিনি বলেন, কপ ২৬ এর প্রাক্কালে একথা সর্বজন স্বীকৃত যে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমূখী এবং তীব্রতম প্রভাবের মুখোমুখি দেশগুলোর একটি। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের দ্রুত হ্রাস, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকর উৎপাদন ও ভোগের বৃদ্ধি, এবং উৎপাদকদের স্বল্পমেয়াদে মুনাফা অর্জনকে প্রাধান্য দেয়াৎসহ নানামূখী সমস্যায় জর্জরিত যেগুলো একে অপরের সাথে সম্পর্কিত।

 

ড মাহমুদা আক্তার বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বিপুল পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের প্রয়োজন। ক্লাইমেট বন্ড, গ্রীণ বন্ড, সাস্টেইনেবিলিটি বন্ড, গ্রীণ লোন সহ নানা মাধ্যমে সারা পৃথিবীতেই পরিবেশবান্ধব বা টেকসই অর্থায়ন দ্রুত বাড়ছে। ২০১৬-২০২০ এই সময়ে ১৯৯০ বিলিয়ন ডলার পৃথিবীব্যাপী টেকসই অর্থায়ন হয়েছে। একই সময় বাংলাদেশে এ ধরনের অর্থায়নের পরিমান প্রায় ৩.৯২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৩৪ বিলিয়ন টাকা)।

 

ড মাহমুদা আক্তার ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ২০৩০ এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাইমেট-স্মার্ট বিনিয়োগের প্রয়োজন, যার তুলনায় বর্তমান টেকসই অর্থায়নের পরিমান অত্যন্ত কম এবং বর্তমান হারে এগুলে টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ যোগাড় করা বাংলাদেশের জন্যে অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে।

 

টেকসই অর্থায়ন ও বিনিয়োগের যে বিশাল ঘাটতি রয়েছে তা মেটানোর জন্যে ড মাহমুদা আক্তার সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, বিশেষ করে দেশের মুদ্রাবাজার এবং পুজিবাজার উভয়কে সমন্বিত করে নতুন নতুন অর্থায়নের প্রডাক্ট চালু করার উপর জোর দেন।

 

তিনি বলেন, সরকার তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে, তবে এই বিশাল চাহিদা সরোকারের একার পক্ষে মেটানো সম্ভব নয়। দেশের যে অভ্যন্তরীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজারে এমন প্রোডাক্ট বা সিকিউরিটিজ উদ্ভাবন ও চালু করতে হবে যার মাধ্যমে বৃহৎ মুলধন বা অর্থায়ন সাধারন মানুষের কাছ থেকে সঞ্চালন করা যায়। বিএসইসি সম্প্রতি একটি গ্রীন বন্ড চালু করেছে এবং সামনের দিনগুলোতে এর আরো সম্প্রসারন হবে। একইসাথে দেশের বাজারে টেকসই ও জলবায়ু অর্থায়নের জন্যে ক্লাইমেট বন্ড, সাস্টেইনিবিলিটি বন্ড, সোস্যাল বন্ড ও গ্রীণ ইক্যুইটি নানা ধরনের সিকিউরিটিজ এর ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

 

ড মাহমুদা আক্তার বলেন, উদীয়মান অর্থনীত্র দেশ বাংলাদেশ ২০২৪ এর মধ্যে একটি মধ্যম-আয়ের দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে এবং এ দেশটি ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপি নতুন এশিয়ান টাইগার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বাংলাদেশ তার উচ্চ প্রবৃদ্ধিকে ধূসর নয় বরং টেক সই ও সবুজ প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে বদ্ধপরিকর। আর এই উদ্দেশ্য অর্জনে দেশের আর্থিকবাজারকে আরো পরিবেশবান্ধব করে তোলার কোন বিকল্প নেই।

 

তিনি তার উপস্থাপনায় আগামী দিনগুলোতে পরিবেশবান্ধর অর্থায়নের মাধ্যম উদ্ভাবন করা, অর্থনীতিতে উৎপাদকদের পরিবেশের উপরে প্রভাব মূল্যায়নে ইএসজি ইন্ডেক্স চালু করা, অর্থনৈতিক জোনগুলোতে বিদেশী বিনিয়গে পরিবেশ রক্ষাকে প্রাধান্য দেয়া, পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগরীদের পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগে এগিয়ে আসা, সরকারি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বে নেয়া প্রকল্পে টেকসয় অর্থায়নকে ব্যবহার এবং সর্বোপরি সর্বস্তরে পরিবেশ রক্ষাকে প্রাধান্য দেয়ার উপরে গুরুত্ব আরোপ করেন।

 

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//