
মঞ্জুরুল আলম: দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে পৃথক বন্ড মার্কেট চালু করার বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এমনকি কমিশনের সম্মানিত চেয়ারম্যান সাহেবও বন্ড মার্কেট শুরু করতে আগ্রহী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও চাচ্ছেন শেয়ারমার্কেটটা ভালো হোক। তিনি চাচ্ছেন বাজারে বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাক। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে সুকুক বন্ড চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সরকারি ট্রেজারি বন্ডগুলোর লেনদেনও পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে।
শুধু অল্প কিছু শেয়ার দিয়ে বাজার ভালো করলে তা টেকসই হবে না। সামগ্রিক বাজারকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে। বন্ড মার্কেট পুরোপুরি চালু ও লেনদেন শুরু হলে বাজারের লেনদেন অনেক বেড়ে যাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
তাদের মতে, যদি বন্ড মার্কেট পুরোপুরিভাবে যাত্রা শুরু করে তাহলে বিএসইসির মার্কেট নিয়ে যে বিশাল চিন্তাভাবনা সেটা বাস্তবায়ণ সম্ভব। এ কারণে সবাইকে কন্ট্রিবিউশন করতে হবে। সামগ্রিক বাজারকে ভালো করার দায়িত্ব সবার। এজন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।
সম্প্রতি দেখতে পাচ্ছি, বন্ড মার্কেট নিয়ে সবাই অনেকটা সচেতন। আমরাও চাই বন্ড মার্কেট হোক। শেয়ারমার্কেটের মত বন্ড মার্কেটের জন্য আলাদা একটা প্ল্যাটফর্ম থাকুক। যেমনভাবে সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ার লেনদেন হয়, ঠিক তেমনিভাবে যাতে বন্ডগুলোর লেনদেন করতে পারা যায়- এরকম একটা প্লাটফর্ম হোক।
যারা দীর্ঘমেয়াদি ফাইন্যান্স সুবিধা খুজছে, তারা বন্ড মার্কেটে আসুক। যারা সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা তাদেরকে বন্ড মার্কেটের প্রতি আগ্রহী করা যায়। বন্ড মার্কেটকে যদি তাদের কাছে সহজভাবে তুলে ধরা যায় তাহলে সঞ্চয়পত্রের লোকদেরকে বন্ড মার্কেটে আনা যাবে। সেই সাথে বন্ড মার্কেটের করের উপর একটু নজর দিতে হবে এবং তাদেরকে যদি একটি ভাল প্রফিট বা সুদ দেওয়া যায় তাহলে বেশি আগ্রহী হবে। আর সঞ্চয়পত্রের সম্পূর্ণ বিনিয়োগটা বন্ড মার্কেটে চলে আসলে বাজারের জন্য একটা বিশাল সাপোর্টি হবে। যারা দীর্ঘমেয়াদি ফাইন্যান্সিংয়ের জন্য ব্যবসা করতে পারছে না, তাদের সহজ ফাইন্যান্সিংয়ের একটা ব্যবস্থা হবে।
বাংলাদেশে অনেকেই ইনভেস্ট করতে চায়, অনেক ছোট কারখানায় ইনভেস্টমেন্টের চাহিদা রয়েছে, কিন্তু ব্যাংকে থেকে ঋণ নিতে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। অনেক কাগজপত্র জমা দিতে হয়। যদি তারা বন্ড মার্কেট থেকে সহজে টাকা তুলতে পারে তাহলে তাদের একটা দীর্ঘমেয়াদী ফাইন্যান্স হবে। তারা নতুন প্রোডাকশনে যেতে পারবে এবং তাদের সাপোর্ট হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বড় বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বন্ড ইস্যুর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে দেশের পুঁজিবাজার যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী হয়ে উঠবে। এরফলে জিডিপিতেও এ বাজারের অবদান বাড়বে।
লেখক: চীফ অপারেটিং অফিসার (সিওও), এনসিসিবি সিকিউরিটিজ লিমিটেড।