Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Sunday, 28 Nov 2021 00:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: ইউরোপে হঠাৎ করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে। এটি ছিল ডব্লিউটিওর দ্বাদশ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন, সংক্ষেপে যা ‘এমসি-১২’ নামে পরিচিত। 

৩০ নভেম্বর মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় চার দিনব্যাপী ডব্লিউটিও মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা ছিল।

তাতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের যোগ দেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ থেকে।

ডব্লিউটিওর সাধারণ পরিষদের সভাপতি ডাইসো কাসতিলো গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বেড়ে গেছে। এতে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে অনুষ্ঠান স্থগিত করা ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। পরিস্থিতি অনুকূল হলে নতুন করে বৈঠকের তারিখ ঘোষণা করা হবে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে ইতিমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ডব্লিউটিওর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্মেলনে যে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হবে, তাতে সম্মেলন করা ঠিক হতো না। ২০২০ সালের জুন মাসে কাজাখস্তানে এই সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কোভিডের কারণে সেটিও স্থগিত করা হয়েছিল।

ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা এ নিয়ে ভিন্ন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অনেক প্রতিনিধি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিলেন, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অনেক বিষয় ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে আলোচনা করা যায় না বা করা গেলেও তা ফলপ্রসূ হয় না। তবে সম্মেলন স্থগিত হওয়ার মানে এই নয় যে আলোচনা থেমে যাবে।’

তবে সম্মেলন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ক্ষতি হবে না বলে মনে করে সরকারি-বেসরকারি পক্ষগুলো। বরং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলো নিয়ে দর-কষাকষি করার আরও সময় পাওয়া গেল বলে মনে করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্যসুবিধা ছাড়াও ডব্লিউটিওর সংস্কার, কৃষি ভর্তুকি, ই-কমার্স, বিনিয়োগ ও সেবা খাতে এলডিসির জন্য অগ্রাধিকার নিয়ে সম্মেলনে বিভিন্ন আলোচনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ।

ডব্লিউটিওর বিধি অনুযায়ী এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর কোনো দেশেরই অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) পাওয়ার কথা নয়। উত্তরণের পর এসব সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে দেশগুলো ক্ষতির মুখে পড়ে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন করে উত্তরণ ঘটানো দেশগুলোকে সহায়তা করার নতুন কোনো উপায় বের করা যায় কি না, বাংলাদেশ এই বিষয়ে আলোচনা করার প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে জানা যায়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বৈঠক স্থগিত হওয়ায় এক অর্থে ভালো হলো। এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী যেসব সুবিধা আমাদের চাওয়া ছিল, এবারের সম্মেলনে সেগুলো বাদ পড়ে গেলে কিছু করার ছিল না। এখন বরং দর-কষাকষি করার বাড়তি সময় পাওয়া গেল। আশঙ্কা ছিল, মৎস্য বিষয়েও বাংলাদেশের ওপর কিছু চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এখন কিছুটা দম পাওয়া গেল।’

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাড়তি শুল্কের চাপে পড়বে বাংলাদেশ। সরকারের এক প্রাথমিক হিসাবে এতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমতে পারে ৫৩৭ কোটি ডলারের মতো। ডব্লিউটিও সচিবালয় এক হিসাবে বলেছে, যেসব দেশ উন্নয়নশীল হওয়ার তালিকায় আছে এবং এ কারণে তাদের রপ্তানি আয়ে যে অভিঘাত আসতে পারে, তার ৯০ শতাংশই হবে বাংলাদেশের ওপরে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি নিজেও সম্মেলনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, গত রাতে বলেন, ‘চার বছরের বিরতি শেষে সম্মেলনটি হতে যাচ্ছিল। হয়ে গেলে এক অর্থে ভালোই হতো। শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ক্ষতি নেই। দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করার জন্য আরও সময় পাওয়া গেল।’

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//