Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Sunday, 28 Nov 2021 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

ড: মিহির কুমার রায়: বাংলাদেশ এখন স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তীর অনুষ্ঠান ৫০ বছর উদযাপন করছে এবং এরই মধ্যে দেশটি বিশ্বে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি ঘটনা সমীক্ষায় পরিণত হয়েছে, যা খুব কম অর্থনীতিবিদই অনুমান করেছিলেন। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ যখন জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারে প্রতিবেশী অনেককে ছাড়িয়ে গিয়েছিল, তখন অনেকেই এটিকে একটি আকস্মিক সাফল্য হিসেবে উপহাস করেছিলেন। কিন্তু তখন থেকে বছরান্তে তাদেরকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ যা বিশ্ময়করভাবে এখন সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি হয়ে গেছে। স্বাধীনতার পরপরি জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যুদ্ধ বিদ্ধস্থ অর্থনীতিকে পুণ:র্গঠনের অংশ হিসাবে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছিলেন সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির কাঠামোর নিরিখে, যেমন ব্যাংক বীমা, ভারী শিল্প জাতীয়করন, সংবিধান প্রণয়ন চার মূল নীতির ভিত্তিতে, মূদ্রা ব্যবস্থা চালু, সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান, প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণকাল (১৯৭৩-৭৮), পরিকল্পনা কমিশনকে সমাজতান্ত্রিক  কাঠামোতে সাজানো, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরন, আটষট্টি হাজার গ্রামে বাদ্ধতামূলক সমবায় প্রতিষ্ঠার ঘোষনা, জাতীয় সংসদে স্বাধীন দেশের প্রথম  (১৯৭২-৭৩) অর্থবছরের ৭৬৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষনা, কৃষকের ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ ইত্যাদি। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ মাত্র সাড়ে তিন বছর মোটেই একটি অর্থনীতিকে গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সময় নয়। ১৯৭৫ সালের ১৬ই আগষ্ট কাল রাত্রিতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে এবং এর পরবর্তী সময় থেকে ডিসেম্বর ৯০ পর্যন্ত ১৪ বছর সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসিন থাকার কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তেমন হয়নি এবং বৈদেশিক বাণিজ্য উদারীকরণের পর ১৯৯০-এর পরবর্তী সময় থেকে অর্থনীতির গতিধারা দ্রুত বদলাতে শুরু করে এবং ২০০৯-এর পর থেকে আরো গতিশীল হয়। তারই ফলে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড অনুযায়ী ২০১৫ সালের নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়। প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন এবং ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া যা ২০১৫ সালেই অর্জিত হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ ২০১৮ সালের জাতিসংঘের মানদণ্ডে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের শর্ত পূরণ করেছে এবং ২০২১ সালে দ্বিতীয়বারের মতো শর্তগুলো পূরণ করে ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা লাভ করবে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রভূত সাফল্য অর্জন করে। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রার পেছনে যে নিয়ামকগুলো সহায়তা করেছে সেগুলো হলো, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সহায়ক পরিবেশ, গ্রামাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগের বিস্তৃতি, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণ, তৈরি পোশাক শিল্প, সরকারের উন্নয়ন নীতি এবং অন্যান্য সামাজিক সূচকে উন্নতি। 

গত পাঁচ দশকে রূপান্তরের গভীরতা  আরো ব্যপকতা লাভ করে যখন ২০০৯ সালের পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার সাড়ে তিন গুণের বেশি বেড়ে যায় এবং গত ৫০ বছরের মধ্যে গত দশকে গড় প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি ছিল অর্থ্যাৎ ৬.৭৬ শতাংশ যা বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে প্রতি দশকে ১ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে যা প্রশংসনীয়। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের সক্ষমতার বিষয়টি এখন স্বীকৃত। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের (সিইবিআর) এক নতুন জরিপে বলা হয়েছে, ২০৩৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান আকার ৩০২ বিলিয়ন, যা ২০৩৩ সালে হবে ৮৫৫ বিলিয়ন। 

স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের বাজেটের আকার বেড়েছে ৭৬৭ গুণ এবং গত বারের মতো এবারও করোনা মোকাবেলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এই বাজেটে এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট আকার হচ্ছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা যা মোট জিডিপির ১৭.৪৭ শতাংশ। করোনার বছরেও ৭.২ শতাংশ উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য মাত্রা এবং মূল্যস্ফীতির হার ৫.৩ শতাংশে লক্ষ্য নির্ধারন করা হয়েছে। এই বাজেটের মূল বৈশিষ্টগুলোর অন্যতম হলো অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (জুলাই ২০২০-জুন ২০২৫), রুপ কল্প ২০২১, এসডিজি ২০৩০ বাস্তবায়ন ও প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ এর লক্ষ সামনে রেখে যথাক্রমে উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশে উত্তরনের অনুসঙ্গ হিসাবে, যেখানে উচ্চ প্রবৃদ্ধিও (৮.২%) লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। বাজেটে মোট আয়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ১১.৩৫%) যা গত অর্থবছরে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল  ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা এবং  উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ কোটি টাকা যার মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। 

নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সক্ষমতা বেড়েছে। বর্তমানে পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ১০-১২টি মেগা প্রকল্পসহ কয়েকশ প্রকল্প দেশী-বিদেশী অর্থায়নে বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে। সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০ মেগা প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৫৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্পের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প (১৮ হাজার ৪২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা), মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল পাওয়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্টে (৬ হাজার ১৬২ কোটি টাকা), চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পে (৫ হাজার ৫৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা)।, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬) ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ (১ম সংশোধিত) ৩ হাজার ৮২৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পে ৩ হাজার ৫০০ কোটি, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে (৩ হাজার ২২৭ কোটি ২০ লাখ), এক্সপানশন অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক আন্ডার ডিপিডিসি এরিয়া প্রকল্পে (৩ হাজার ৫১ কোটি ১১ লাখ ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (১ম পর্যায়) (১ম সংশোধিত) ২ হাজার ৮২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় বিনিয়োগের সমাবেশ ঘটায় প্রবৃদ্ধির গতিশীলতা অব্যাহত থাকবে এবং আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধির হার ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে ২০৪১ সময় পর্যন্ত ১০ শতাংশ হবে বলে আশা করা যায়। 

বিশ্লেষনে দেখা যায় গত এক দশকে ২০১০-১১ অর্থবছরেই বাজেটের বাস্তবায়ন তুলনামূলক বেড়েছে। কিন্তু শতভাগ হয়নি। সরকারি হিসাবেই গত ১০ বছরের সংশোধিত বাজেট বাস্তবায়নের হার গড়ে ৭০ শতাংশের কম হয়েছে। যদিও এর গুণগত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। অর্থবছর শেষে বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৯৭.০৬ শতাংশ। বাজেটের খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে ব্যয় করা অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৫২ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার ৯৩.১৮ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে ব্যয় হয় ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়নের হার ৯০.৭৬ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো বাজেটের আকার ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা হয়। বছর শেষে মোট বাজেটের মধ্যে ব্যয় হয় ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেট বাস্তবায়নের হার ৮৪.৫৯ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ২৮ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়। বছর শেষে বাজেট বাস্তবায়নের হার দাঁড়ায় ৭০ শতাংশের কিছু বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। সংশোধিত বাজেটে এর আকার দাঁড়ায় ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। প্রকৃত বাস্তবায়ন হয় ৩ লাখ ৯১ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার ৮৯ শতাংশের কম। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছিল গত ১৩ জুন ২০১৯। ২১ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বাজেট ঠিক করা হয় ৫ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। করোনার প্রভাবে বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে ৭০ শতাংশের কম। চলতি ২০২০-২১ বছরের মূল বাজেট ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার। গত ৯ মাসে উন্নয়ন বাজেট সংশোধনের পরও ৪২ শতাংশ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ চিত্র অনেকটাই স্বাভাবিক। অর্থবছরের শেষ দিকে এসে বিল পরিশোধসহ অন্যান্য কাজে গতি আসে বেশি। এছাড়া গত ২০২০ সালের  মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই সব ধরনের উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা ছিল এবং সরকারও কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে কৃচ্ছতা সাধন করেছে। এরপরও সরকার উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দের ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত খরচের অনুমতি দিয়েছে। 

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি সত্বেও আগামীতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তার মধ্যে আছে (১) আমাদের জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী যারা ১৫-২৯ বছর বয়সের এখনো ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষা, কাজে ও প্রশিক্ষণে যুক্ত নেই। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে হবে, (২) ভবিষ্যতে উন্নত দেশ হতে হলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের বিকল্প নেই (৩) রূপকল্প ২০২১-এর আলোকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি যার প্রমান অনলাইন শ্রমবাজারে ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশ বিশ্বে জনসংখ্যায় অষ্টম বৃহত্তম ও এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আমাদের ব্যবসায় পরিবেশ উন্নয়নে আরো মনোযোগ দিতে হবে; (৪) আমাদের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে, রফতানি পণ্যের ভেতরে ও বাইরে বহুমুখীকরণে নজর দিতে হবে, মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে প্রতিযোগ সক্ষমতা বাড়াতে হবে, আমাদের অবকাঠামো খাতে আরো বিনিয়োগ বাড়াতে হবে; (৫) বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া এবং অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে করোনা মহামারী নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক দারিদ্র্য বৃদ্ধি, শ্রমজীবী ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মজীবীদের অনেকের কর্মসংস্থান হারানো; (৬) মেগা প্রকল্পগুলোর সময় মত শেষ করা যেমন আগামী বছরের জুন মাসে পদ্মা সেতু চালু হতে পারে, রুপপুরকে এখন বলা হয় রাশপুর এবং পাতালের রেল আগামী বছরেই চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে সময় যেন আর অতিক্রান্ত না হয়।

লেখক: অধ্যাপক, ডীন ও সিন্ডিকেট  সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।