
নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো: সিরাজুল ইসলাম।
সোমবার (২৯ নভেম্বর ২০২১) সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসান ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের বলরুমে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত এ সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, সামিটের দুদিনে ১৬টি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে যুক্ত হয়েছেন ৫৪টি দেশের ছয় হাজারের বেশি অতিথি। এর মধ্যে অনলাইনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ও সরাসরি প্রায় পাঁচ হাজার অতিথি অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের আশ্বাস পাওয়া গেছে।
মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বড় সাড়া পেয়েছি। এর মধ্যে সৌদি কোম্পানি ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশন বড় ধরনের বিনিয়োগ করবে। তারা ইউরিয়া সার, চিনি ও বেফারেজ শিল্পে এবং বড় আকারের সিমেন্ট কারখানা স্থাপনে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এছাড়া আইয়াজ ও ইউনাইটেড গ্রুপ যৌথভাবে ১৫০ মিলিয়ন ডলার, কর্ণফুলি ড্রাই ডক ১১৮ মিলিয়ন ও বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এরই মধ্যে তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দুটি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি এবং চীনের সঙ্গে তিনটি বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে। বিদ্যুৎ, প্রকৌশল, ওষুধ, আইসিটি, হাসপাতাল, পোশাক খাতসহ কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে এসব চুক্তি হয়েছে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন ঢাকা নর্থ সিটি করপোরেশনে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৫০ কোটি ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইটি হাব হাই-টেক পার্কে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে।
মো: সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিদেশিরা কিছু নীতি সহায়তার কথা বলেছে, সেগুলোতে সংস্কার করা হবে। যে অনুকূল পরিবেশ পেলে তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন, সেসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে কর্ণফুলী ড্রাই ডক ইকোনমিক জোন লিমিটেড ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মধ্যে ১১৮ মিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ চুক্তি সই হয়। এছাড়া সৌদি আরবের একোয়া পাওয়ার বাংলাদেশে ১৫০ কোটি (দেড় বিলিয়ন) ডলার বিনিয়োগে সম্মতি জানিয়েছে।
এর আগে সামিটে দিনব্যাপী বেশ কয়েকটি কারিগরি সেশনের আয়োজন করা হয়। এসব সেশনে বক্তাদের বিভিন্ন আলোচনায় উঠে আসে, দেশে কয়েক বছর ধরেই দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে। এ উন্নয়ন অব্যাহত থাকার সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তা চাহিদা ও বাজারেরও সম্প্রসারণ ঘটবে। অর্থনীতির এ সম্প্রসারণ বর্তমানে ১১টি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ তৈরি করেছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটন, অবকাঠামো, ব্লু ইকোনমি, কৃষি ও খাদ্য খাতে দ্রুতই বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সব খাতেই আইনি সুযোগ-সুবিধা সহজীকরণের পাশাপাশি তা বাড়ানোরও প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে বাড়াতে হবে পরিচালন দক্ষতাও।
সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অনান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিকস সাপোর্ট বিষয়ক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার সালেহ নাসের আল যাসের, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ, ফনে ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) প্রেসিডেন্ট রূপালী চৌধুরী প্রমুখ।
এরআগে রোববার রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সামিটের উদ্বোধন করেন তিনি। আর সোমবার সন্ধ্যায় সমাপনী অনুষ্ঠান ও মিডিয়া ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে শেষ হয়েছে দুদিনব্যাপী এ আয়োজন।
বিনিয়োগবার্তা/শামীম//