
নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্জন, উপকৃত সকল জনগণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সারা দেশে উদযাপন হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০২১।
দিবসটি উপলক্ষে রোববার সকাল ৭টার দিকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নেতৃত্বে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে দিবসটি উপলক্ষে সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদ ও আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম।
ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা হতে শুরু করে খামারবাড়ি ঘুরে পুনরায় দক্ষিণ প্লাজায় শেষ হয়।
এ সময় রং বেরঙের ফেস্টুন, ব্যানার ও প্লাকার্ডসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সর্বস্তরের জনগণ এতে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও বিদেশী মিশনগুলোতে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আইসিটি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০২১’ উদযাপন এবং ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে আইসিটি খাতে অবদান রাখার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আলাদাভাবে তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হয়। জাতীয় পর্যায়ে এবং স্থানীয় পর্যায়ে মোট ২৪টি পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট, সম্মাননা সনদ এবং নগদ অর্থের চেক বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদেরও পুরস্কৃত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস কভিড-১৯ ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সুরক্ষা’র (সুরক্ষা অ্যাপ) প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে সেরা দলের দলনেতা হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেন।
পাঁচ বছর ধরে দিবসটি পালন করা হলেও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণার ১২ বছর উপলক্ষে ব্যাপক পরিসরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হাতে নেয় সরকার। ২০০৮ সালে ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ: রূপকল্প ২০২১-এর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণাকে স্মরণীয় এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অর্জন ও তৎপর্য জনগণের মাঝে উপস্থাপনের নিমিত্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১২ ডিসেম্বর দিনটিকে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস হিসেবে পালনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। সে মোতাবেক ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর দেশব্যাপী প্রথম বারের মতো বর্ণাঢ্যভাবে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি দিবস পালিত হয়। ২০১৮ সালে মন্ত্রিসভা বৈঠকে দিবসটির নতুন নামকরণ হয় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//