
ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতের এলঅ্যান্ডটি ফাইন্যান্স হোল্ডিংসের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ইউনিট অধিগ্রহণ করবে লন্ডনভিত্তিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি। ভারতে সম্পদ ও বিনিয়োগ ব্যবসা বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংকটি। খবর: দ্য ন্যাশনাল।
এইচএসবিসি জানায়, ব্যাংকটি এলঅ্যান্ডটি ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট অধিগ্রহণে সব শর্তে সম্মত হয়েছে। এ অধিগ্রহণের আর্থিক মূল্য প্রায় ৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর আগে মার্কিন তহবিল পরিচালনাকারীরা প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ব বিক্রিতে নিলাম ডাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।
এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী নোয়েল কুইন বলেন, এ লেনদেন ভারতে আমাদের ব্যবসায়িক শক্তি ও পরিধি বাড়িয়ে তুলবে। পাশাপাশি এটি এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাংকের অবস্থান আরো শক্তিশালী করে তুলবে। এটি আমাদের এশিয়ায় কার্যক্রম বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা উল্লেখযোগ্যভাবে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখব।
বিবৃতির তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এলআইটিএমের ১ হাজার ৮০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ এবং ২৪ লাখের বেশি সক্রিয় অ্যাকাউন্ট রয়েছে। প্রস্তাবিত অধিগ্রহণের সার্বিক অর্থায়ন বিদ্যমান সম্পদ থেকে করা হবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ ব্যাংকটি।
এশিয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ভারত এইচএসবিসির অন্যতম প্রধান বাজারে পরিণত হয়েছে। দেশটি ব্যাংকটির আয় ও মুনাফার মূলভিত্তিতে পরিণত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে ভারত ব্যাংকিং সেবায় এইচএসবিসির অন্যতম বৃহৎ বাজার। ২০২০ সালে এখান থেকে ব্যাংকটি ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে। হংকং ও চীনের মূল ভূখণ্ডের পর ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় বৃহত্তম এশীয় মুনাফা কেন্দ্র হয়ে উঠছে ভারত।
বর্তমানে এইচএসবিসি একটি কৌশলগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, যেখানে ব্যাংকটি ব্যবসাকে ক্রমবর্ধমানভাবে এশিয়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে অঞ্চলটির ক্রমবর্ধমান সম্পদের একটি বৃহত্তর অংশ পরিচালনার দিকে মনোনিবেশ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এইচএসবিসি এশিয়া-প্যাসিফিকের সহনির্বাহী কর্মকর্তা সুরেন্দ্র রোশা বলেন, এ অধিগ্রহণ ব্যাংকটিকে ভারতের বাজারে গভীরভাবে প্রবেশের সুযোগ করে দেবে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভারতের মানুষের ক্রমবর্ধমান আয় এবং জীবনযাপনে উচ্চমানের চাহিদা খাতটিকে প্রসারিত করলেও এখনো সেটি নিম্নমুখী রয়েছে। ২০২১ সালের প্রথমার্ধ শেষে এইচএসবিসি বিভিন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসার মাধ্যমে গ্রাহকদের পক্ষে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারের বেশি লেনদেন করেছে। গত বছরের তুলনায় তা ২০ হাজার কোটি ডলার বেশি।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//