
ডা. সুষমা রেজা: ক্যান্ডি ক্রাশ, পাবজি কিংবা টেম্পল রান- বিনোদনের জন্যে এই গেইমগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে এখন ব্যাপক জনপ্রিয়।
আশঙ্কার ব্যাপার এটাই যে, এই বিনোদনই যে কখন আসক্তিতে রূপ নিচ্ছে, রোগ হিসেবে উপসর্গ তৈরি করছে - আমরা অনেকেই হয়তো সে ব্যাপারে পুরোপুরি বে খেয়াল।
মাত্রাতিরিক্ত স্ক্রিন গেমিং এক ধরনের আচরনগত আসক্তি। এই আসক্তির মূল উপসর্গ হল - নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত হওয়া সত্ত্বেও গেমিং বন্ধ করতে না পারা।
আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র নির্দেশনা অনুযায়ী, নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো ১ বছরব্যাপী থাকলে তাকে রীতিমত একটা রোগ ('Gaming Disorder') হিসেবেই নাম দেয়া যাবে -
▶ সারাক্ষণ অনলাইন খেলা নিয়েই চিন্তা করা,
▶ স্ক্রিন গেম বন্ধ করে দিলে বা কোন কারণে খেলতে না পারলে, অশান্তি, ছটফটে ভাব, দুশ্চিন্তাসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়া,
▶ দিনদিন খেলার সময় বৃদ্ধি পাওয়া,
▶ চেষ্টা করা সত্ত্বেও, স্ক্রিন গেমিং কমাতে বা বন্ধ করতে না পারা,
▶ অনলাইন গেমিং বাদে, অন্যান্য কাজে আগ্রহ কমে যাওয়া বা না পাওয়া,
▶ সমস্যা হওয়া সত্ত্বেও, গেমিং চালিয়ে যাওয়া,
▶ পরিবারের বাকিদের নিজের স্ক্রিন গেমে ব্যবহৃত সময় নিয়ে মিথ্যা বলা বা লুকানোর চেষ্টা,
▶ মন খারাপ, অনুতাপ থেকে বাঁচতে, পুনরায় খেলার সাহায্য নেয়া,
▶ এই গেমিং এর কারনে পারিবারিক, সামাজিক, কর্মক্ষেত্রে বা সম্পর্কে সমস্যার সম্মুখীন হওয়া।
'গেমিং ডিসওর্ডার' নামের সিলমোহর লাগানোর আগে ২টি বিষয় খেয়াল করা জরুরি:
প্রথমত, স্ক্রিনে অতিরিক্ত খেলার পিছনে তার দুশ্চিন্তা, বিষন্নতা বা যেকোন মানসিক সমস্যা লুকানোর চেষ্টা দায়ী কিনা। তাহলে, এসবের চিকিৎসা আগে করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, খেলার প্রতি বেশি আকর্ষন এবং খেলার নেশা - এই দুইটিকে আলাদা করতে হবে। সার্বিকভাবে ক্ষতি হলে তা চিকিৎসার আওতাভুক্ত করা দরকার।
আসক্ত হয়ে যাবার আগেই নিজের এবং পরিবারের সতর্কতা সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। আশেপাশের কেউ গেমিং ডিসওর্ডারে আক্রান্ত মনে হলে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া দরকার; কারণ, অনেক সময় ব্যক্তির ইচ্ছাশক্তি থাকলেও রাস্তা জানা থাকে না!
লেখক: ডা. সুষমা রেজা, এমবিবিএস, এমডি (বিএসএমএমইউ), হেড অব সেক্সোয়াল মেডিসিন ইউনিট এন্ড কনসালটেন্ট ডারমেটোলজিস্ট, লাইফস্প্রিং লিমিটেড।।