
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: বর্তমান রাজধানী জাকার্তা থেকে সরিয়ে বোর্নিও দ্বীপে নিতে একটি আইন পাস করেছে ইন্দোনেশিয়ার সংসদ। গতকাল রাজধানী স্থানান্তরে বিল অনুমোদন দেয়া হয়। সংসদের স্পিকার হুয়ান মহারানির বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ খবর নিশ্চিত করেন।
দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রীর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, সংসদে ভোটাভুটি শেষে বিলটি পাস হয়। অনুমোদন পাওয়া বিল অনুসারে জাকার্তা থেকে দেশটির রাজধানী দূরবর্তী বোর্নিও দ্বীপের বনাঞ্চলীয় এলাকা কালিমানতানে সরিয়ে নেয়া হবে। এতে প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডোর একটি উচ্চাভিলাষী প্রস্তাব বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। এজন্য মেগা প্রকল্পটির খরচ ধরা হয়েছে ৩২ বিলিয়ন ডলার।
আইনটি পাসের পর সংসদে ইন্দোনেশিয়ার পরিকল্পনামন্ত্রী সুহারসো মোনোর্ফা বলেন, নতুন রাজধানীর একটি মূল কাজ রয়েছে। এটি জাতির পরিচয়ের প্রতীক। একই সঙ্গে এটি হবে অর্থনৈতিক অভিকর্ষের নতুন কেন্দ্র। জোকো উইডোডোর পছন্দ অনুসারে নতুন রাজধানীর কেন্দ্রকে নুসানতারা বলা হবে। নুসানতারা ইন্দোনেশিয়ার জাভা অঞ্চলের একটি নাম। আগের দিন সোমবার পরিকল্পনামন্ত্রী এ বিষয়ে ঘোষণা দেন।
রাজধানীর উন্নয়নে অর্থায়নসহ সার্বিক বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে এ আইনে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাকার্তা থেকে বর্তমান রাজধানী স্থানান্তরের প্রাথমিক কাজ ২০২৪ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এতে বন্দর ও সড়ক যোগাযোগ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। স্থানান্তরের মহাযজ্ঞটি সম্পন্ন করা হবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান রাজধানী জাকার্তা নানা সমস্যায় জর্জরিত। ব্যস্ত মেগাসিটির বাসিন্দা প্রায় এক কোটি। যানজট, বন্যা ও বায়ুদূষণ শহরটির প্রধান প্রধান সমস্যার মধ্যে অন্যতম। ২০১৯ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো প্রথম রাজধানী স্থানান্তরের মেগা প্রকল্পটি ঘোষণা করেন। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব পিছিয়ে দিতে বাধ্য করে প্রকল্পটির কার্যক্রম। বোর্নিও দ্বীপটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ দ্বীপ।
নুসানতারাকে তৈরি করতে বিশ্বের অন্য দেশের নতুন রাজধানী বিনির্মাণের প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হবে। বিশেষ করে মিয়ানমার ও ব্রাজিলে যেভাবে নতুন রাজধানী গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন রাজধানী সরবরাহ চেইনকে শক্তিশালী করবে। এটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, বিনিয়োগপ্রবাহ ও ইন্দোনেশিয়ার বিশ্ববাণিজ্য পথের কৌশলগত অবস্থানকে আরো সুসংহত করবে।
আশা করা হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশটির নতুন রাজধানী জাভা দ্বীপের বাইরে লো কার্বন সুপার হাব হিসেবে ওষুধ শিল্প, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতের টেকসই উন্নয়ন ঘটাবে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, পরিবেশগত সমীক্ষা ও জনসাধারণের মতামত ছাড়াই আইনটি দ্রুততার সঙ্গে পাস করা হয়েছে।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//