
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের অন্যতম technology-based বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ''ফিল্টার'' গ্রিন ইনক্লুসিভ বিজনেস চ্যাম্পিয়ন্স ২০২১ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রথম রাউন্ডে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হযয়েছে। তারপর দ্বিতীয় রাউন্ড পেরিয়ে প্রায় ৭০ জন টিম থেকে তারা নির্বাচিত হয়। তিন দিনের গ্রুমিং সেশন ও চূড়ান্ত প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়।
FILTER- একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের নাম। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে খুলনাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ শুরু করলেও ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ঢাকাতে কাজ করছে “ফিল্টার”।
ফিল্টার বিভিন্ন উৎস থেকে অপচনশীল বর্জ্য যেমন- প্লাস্টিক, পলিথিন, কাগজ, গ্লাস, মেটাল এবং ইলেক্ট্রিনিক বর্জ্য সংগ্রহ করে এবং বিনিময়ে পরিবেশবান্ধব গাছ, ছাদ বাগানের সরঞ্জাম, মোবাইল রিচার্জ, ব্যাংকে মানি ট্রান্সফার, নগদ ক্যাশ এবং আপকামিং ফিল্টারের ওয়েবসাইট থেকে যে কোনো পণ্য কিনলেই ফ্রি ডেলিভারির সুবিধা দেয়।
বাংলাদেশে বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিনিয়তই দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর ঢাকা শহর। ঢাকা শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব যেমন বেশি তেমনি ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া বর্জ্য পদার্থের পরিমাণটাও বেশি।
ঢাকা শহরে প্রতিনিয়তই কমছে সবুজের পরিমাণ। বড় বড় নির্মাণ যতই বাড়ছে গাছপালার পরিমাণ যেন ততই কমে যাচ্ছে দিনের পর দিন। সেই ব্যাপার মাথায় রেখেই বর্জ্য সংগ্রহ করে বিনিময়ে মানুষের হাতে গাছের চারা সহ অন্যান্য সুবিধাগুলো পৌছে দিচ্ছে ফিল্টার প্রতিষ্ঠানটি।
ফিল্টারের লক্ষ্য ঢাকা শহর সহ সারাদেশে বর্জ্য সমস্যার স্থায়ী এবং পরিবেশবান্ধব সমাধান দেয়া, নগর অঞ্চল সহ সারাদেশে সবুজের হার বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য শিল্পকে আধুনিকায়ন করা।
তারা বর্জ্যগুলোকে দুইভাগে ভাগ করে দিয়েছে, পচনশীল এবং অপচনশীল। যেগুলো অপচনশীল সেগুলোকে রিসাইক্লিং এর মাধ্যমে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে পরিবেশ রক্ষা করে আসছে এই প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে ফিল্টার মোবাইল এপ্লিকেশনের মাধ্যমে আধুনিক উপায়ে সেবা পৌছে দিতে চায় মানুষের দোরগোড়ায়। মানুষের বাসায় দুই জাতীয় ওয়েস্ট বিন দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। যেন মানুষ দৈনিক ব্যবহার করার পর তৈরি হওয়া পচনশীল এবং অপচনশীল বর্জ্য দুটো আলাদা বিনে জমা করে রাখতে পারে।
এই প্রতিযোগিতায় সহযোগী সদস্যরা অধিকাংশই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভাইরেনমেন্টাল সাইন্স অনুষদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র ছাত্রী।
তারা হলেন: তাওফীর আহমেদ সিয়াম, মোঃ আবু মুছা শুভ, তাসনিম জাবিন জুঁই, সুস্মিতা মান্নান, ফারজানা মাহবুব হৃদিতা, আনিকা সাম-আ, ইবনে নূর রাকিব। এছাড়াও আছেন মাহফুজুর রহমান (গণিত; ঢাবি), নাদভী মাহমুদ (নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়), মেহেদি হাসান রিমন (বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল)
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাবউদ্দিন। তিনি বলেছেন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশের উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে পরিবেশ আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব যন্ত্রপাতি ও সম্পদ আহরণের জন্য বিনিয়োগ কর ছাড় এবং সবুজ সেবা প্রদানকারীদের আয়কর মওকুফের বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।
একই সাথে দূষণ নিরূৎসাহিত করার লক্ষ্যে সবুজ কর আরোপ করার বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে। সবুজ কর প্রণোদনা এবং সবুজ কর আরোপের ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ হচ্ছেঃ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি; সবুজ প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সম্পদ সংগ্রহে শিল্প-প্রতিষ্ঠানসমূহকে উৎসাহ প্রদান; সবুজ প্রযুক্তি সেবা প্রদানকারীদের প্রসার এবং দূষণ সৃষ্টিকারি কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করণ।
গুলশান শ্যুটিং ক্লাবে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সহযোগিতায় গ্রিনটেক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, আয়োজিত “গ্রিন ইনক্লুসিভ বিজনেস চ্যাম্পিয়ন্স ২০২১” শীর্ষক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এছাড়াও এই প্রতিযোগিতায় সহযোগী হিসেবে যারা ছিলেন, জিআইজেড, প্র্যাকটিকেল এ্যাকশন, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ; ব্রাক ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্র্যাষ্ট ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আইপিডিসি এবং আইডিএলসি।
গ্রীন টেক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর একেএম সাইফুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত “গ্রিন ইনক্লুসিভ বিজনেস চ্যাম্পিয়ন্স ২০২১” শীর্ষক সোমবারের পুরস্কার বিতরণীতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিএফ প্রেসিডেন্সি অফ বাংলাদেশের স্পেশাল এনভয় আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফারাহ মো. নাছের প্রমুখ।
গ্রীন টেক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর সিইও লুৎফর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশ এই প্রথম সবুজ উদ্যোক্তা তৈরী এবং সবুজ ব্যাবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গ্রীন টেক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ আয়োজন করেছে গ্রিন ইনক্লুসিভ বিজনেস আইডিয়া বেইজড রিয়েলিটি শো “গ্রীন ইনক্লুসিভ বিসনেস চ্যাম্পিয়ন্স ২০২১’’
জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীর এবং বাংলাদেশ এর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে এই সময়ে এটি একটি অনন্য উদ্যোগ। আগামীর সমৃদ্ধ এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পরবর্তী ৫০ বছর হবে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রে মাইল ফলক। অস্তিত্বের সংকট বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায়, সারা বিশ্বের প্রাকৃতিক সম্পদের বর্তমান চাহিদা মেটানোর জন্য টেকসই ধারণা প্রয়োজন। গ্রীন টেক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং তাদের এই উদ্যোগ এক্ষেত্রে ক্যাটালিস্ট এর ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে গ্রীন লিডার্স এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
পরিবেশমন্ত্রী আরো বলেন, গ্রিন ইনক্লুসিভ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট-এর জন্য শিল্প-কারখানায় দূষণ নিয়ন্ত্রণে ক্লিন ও গ্রিন টেকনোলজির ব্যবহার উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ইতঃপূর্বে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকার একটি ফান্ড গঠন করে। পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে পরিচালিত সবুজ প্রকল্পগুলোতে অর্ধশতাধিক সবুজ পণ্যের বিনিয়োগের উদ্যোগ কার্যকর করেছে। পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রচলন, গবেষণা সম্পাদন, এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসা উদ্যোগ উৎসাহিত করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক একটি বিশেষ ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যার ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্যোক্তাগণ পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপন ও ব্যবসায় উৎসাহিত হবে।
পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বৃদ্ধির অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য “সবুজ অর্থনীতি” তে প্রবেশ করা ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের সাথে সমন্বয় রেখে জাতিসংঘের টেকসই অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা, ২০৩০ অর্জনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সুনির্দিষ্ট কিছু পলিসি গ্রহণের কথা উল্লেখ করে।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই/এসএএম//