
নীলফামারী প্রতিনিধি: ভরা মৌসুমে আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নীলফামারীর কৃষকরা। লাভ তো হচ্ছেই না বরং উৎপাদন খরচ তোলা নিয়েই সংশয়ে রয়েছেন হাজারও কৃষক। এতে জমি থেকে আলু তুলতে চাচ্ছেন না তারা।
বিঘা প্রতি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। সেখানে বর্তমানে বাজারে আলুর দর প্রতি কেজি ৫ টাকা। সেই হিসেবে বিঘা প্রতি কৃষক পাচ্ছে ১২ হাজার টাকার কিছু বেশি। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এখনও আলু তোলা ও বেশি দামে বিক্রি হওয়ার অনেক সময় রয়েছে। সে কারণে কৃষকদের হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই।
আলুর দাম নিয়ে নীলফামারী সদর উপজেলার চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের ভুক্তভোগী এক আলু চাষি বলেন, দুই বিঘা জমিতে আলু করেছি। এখন বাজার দর অনেক খারাপ। পাঁচ টাকা থেকে সাড়ে পাঁচ টাকায় বিক্রি হচ্ছে জমিতে। এই দামে বিক্রি করলে লাভ তো দূরের কথা খরচও উঠবে না।
আরেকজন কৃষক বলেন, এক বিঘা জমিতে আলু করেছি। ১৫ হাজার টাকার কাছাকাছি খরচ হয়েছে। এবার দাম কম মনে হচ্ছে। আলুর ফলন বাম্পার হয়েছে। বাজার দর ভাবিয়ে তুলছে।
আলুর দাম নিয়ে জেলা শহরের পাইকাররা বলেন, আলুর এখন ভরা মৌসুম। সে কারণে দাম কম। আমরা কৃষক থেকে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ টাকায় কিনছি। এবং ছয় টাকায় বিক্রি করছি। তবে মাসখানিক পরে আলুর দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, গতবছর এই সময়েও ভালো বাজার ছিল। কিন্তু এবার অনেক কম। কৃষকরা তাৎক্ষণিক মূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু সংরক্ষণের বিষয়টি ভাবেন না। সংরক্ষণ করলে লাভবান হওয়া যায়। এই এলাকায় আরও হিমাগার স্থাপন প্রয়োজন। তাহলে কৃষকরা হাতের নাগালে আলু সংরক্ষণে উদ্যোগী হবেন।
আলুর সংরক্ষণের বিষয়ে নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী সফিকুল আলম ডাবলু বলেছেন, এই জেলায় যে পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়, তা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার চাহিদা পূরণ করে। কিন্তু কৃষকরা আলু দাম পান না। আমি মনে করি, সরকারিভাবে আলু সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং আলু দিয়ে তৈরিকৃত খাদ্যদ্রব্যের কারখানা স্থাপন জরুরি। তাহলে আলুর ব্যবহার বাড়বে এবং আলুর খাদ্যদ্রব্যও পাওয়া যাবে এই এলাকায়। সেক্ষেত্রে আলুর বাজার দরে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আলুর দাম ও সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, আপাতত বাজার দর কম। কিন্তু এই অবস্থা থাকবে না। যেভাবে হোক আলুগুলোকে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। সে কারণে ওই এলাকায় আলু ভাল ফলন হয় নি। এসব বিবেচনা করে আলু সংরক্ষণ করে রাখলে মাস দুয়েক বা তিনেক পর ভাল দাম আসবে। জেলায় ১১টি হিমাগার রয়েছে। এগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে আলু রাখার জন্য। এছাড়া সরকারিভাবে বিএডিসি এর বীজ উৎপাদন খামারে একটি বীজ হিমাগার স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। সেটি হয়ে গেলে অনেক উপকৃত হবেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগের সূত্র মতে, এবারে জেলায় ২২ হাজার ৩০০ হেক্টরে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ২২ হাজার ৩১০ হেক্টরে। আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৯১ মেট্রিক টন। এদিকে গেল বছর ২২হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ উৎপাদন হয় ৪ লাখ ৪৮ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//