
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: করোনা মহামারী-উত্তর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির আগ্রাসী প্রণোদনা নীতির কারণে মার্কিন অর্থনীতিতে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা যাচ্ছে। ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮ সালের মহামন্দার সময়ে যে রকম আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল বর্তমানে তার চেয়ে বড় অংকের প্রণোদনা দিচ্ছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। খবর দ্য ন্যাশনাল।
বাইডেন প্রশাসনের দেয়া বিপুল প্রণোদনার ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সবচেয়ে সফল দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ অর্থনীতির তুলনায় মার্কিন অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়েছে। এ সময়ে দেশটির অর্থনীতি ২০১৯ সালের শেষ সময়ে থাকা স্তরের ওপরে পৌঁছেছে। আইআইএফের গ্লোবাল ম্যাক্রো ভিউজ প্রতিবেদনে এমনটা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, যথেষ্ট পরিমাণ আর্থিক প্রণোদনার কারণে এ অসাধারণ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। যদিও তা ভয়াবহ মন্দার সময়ে দেয়া প্রণোদনার তুলনায় অনেকটা কম।
আইআইএফের প্রতিবেদনে মহামারী-উত্তর মন্দা থেকে বৈশ্বিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে জরিপের জন্য ২১টি উন্নত অর্থনীতি ও ২৩টি উদীয়মান অর্থনীতির দেশকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ১৯৮০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের শাসনামলের পর গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে ২০২০ সালে নভেল করোনাভাইরাসের অর্থনীতিতে সংক্ষিপ্ত ও বিধ্বংসী ক্ষতের পর তা যথেষ্ট স্থিতিস্থাপকতার সঙ্গে ফিরে এসেছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির আকার বেড়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৯৮৪ সালে হওয়া মন্দার পর অর্থনীতিতে জিডিপির আকার ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর গত বছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ ধারণ করেছে।
গত বছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার দ্রুতগতিতে বেড়ে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই ৬ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছিল। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের মজুদ পুনরায় পূরণ করায় এমনটা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুসারে গত বছর মার্কিন অর্থনীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছিল। চলতি বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশ দাঁড়াতে পারে বলেও মনে করছে আইএমএফ, যা আইএমএফের অক্টোবরে প্রাক্কলিত পরিমাণের চেয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট কম। একই সঙ্গে আগামী বছরের জন্য মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ হবে বলে মনে করছে আইএমএফ।
আইআইএফ তার প্রতিবেদনে জানায়, কভিড-পরবর্তী অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষত যখন মহামারীর শেষ নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই এমন সময়ে এটি অর্জিত হয়েছে। প্রতিবেদনে সংস্থাটি উল্লেখ করে, গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যক্তিগত ভোক্তাব্যয় প্রাক-কভিড স্তরে পৌঁছেছে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন, যা ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর অর্জিত হয়নি। একই সময়ে স্থায়ী ও আবাসন বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পুনরুদ্ধার অর্জন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আইআইএফ জানায়, জি১০-এর দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা আলাদা পথে হাঁটছে। গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফরমেশনেও দেশটি অন্যদের তুলনায় বেশ ভালো পারদর্শিতা দেখাচ্ছে। সংস্থাটি আরো জানায়, মহামারী-উত্তর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট অসম অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে মধ্যমেয়াদে বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকা দেশগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণও যথেষ্ট কম।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//