
নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আরো দুই সপ্তাহ বাড়ছে। গতকাল শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গণমাধ্যমে পাঠানো একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন।
বার্তায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে করোনা সংক্রমণের হার এখন ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। এ পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণীকক্ষে পাঠদান ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটি আরো দুই সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। আশা করি আমরা সবাই যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলব। এর মাধ্যমে আমাদের করোনা সংক্রমণের হার কমে আসবে। শিগগিরই আমরা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের জায়গায় নিয়ে যেতে পারব।
করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে দীর্ঘ ১৮ মাস পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। যদিও শ্রেণী কার্যক্রম চলছিল স্বল্প পরিসরে। সব শ্রেণীর ক্লাস সব দিন হচ্ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি নতুন করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। গত ২১ জানুয়ারি এ ছুটি শুরু হয়েছে, যা শেষ হওয়ার কথা ৬ ফেব্রুয়ারি। তার আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়।
২১ জানুয়ারি করোনা সংক্রমণ রোধে আগামী দুই সপ্তাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের জরুরি নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ২১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে। স্কুল বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ২১ জানুয়ারি বলেন, এখন শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটছে। এটি আগে ছিল না। এটা আমলে নিতে হয়েছে। মাঠের চিত্রের ওপর ভিত্তি করেই বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যমতে, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর টিকাদান এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। দেশে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ১৬ লাখ ২৩ হাজার ৩২২। তাদের মধ্যে টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছে ৪৪ লাখ, দ্বিতীয় ডোজ ৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৪, অর্থাৎ টিকা পেয়েছে ৪৮ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৪ শিক্ষার্থী।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫১। এর মধ্যে টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন ২৩ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৮ জন, দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৩০২ জনকে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ২৯ লাখ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। বাকিদের মধ্যে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী টিকা পেয়েছেন।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//