Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Thursday, 03 Feb 2022 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশ থেকে ২ হাজার ৯৫৪ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এ সাত মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে প্রায় ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, উল্লিখিত সময়সীমায় রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে পোশাক এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য।

অর্থমূল্য বিবেচনায় দেশের রফতানি খাতে প্রধান তিন পণ্য হলো তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। গত অর্থবছরে দেশের মোট রফতানির ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশ জুড়েই ছিল পণ্য তিনটি। এরই পুনরাবৃত্তি বজায় রয়েছে চলতি অর্থবছরেও।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাস শেষে পোশাক পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ। ২৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি। তবে এ সময় পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি কিছুটা কমেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত রফতানি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ইপিবি। এর সর্বশেষ সংস্করণ প্রকাশ হয়েছে গতকাল। হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট পণ্য রফতানি হয়েছে ২ হাজার ৯৫৪ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলারের। ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৬৭ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সে হিসেবে এবার রফতানিতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশে।

অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে পোশাক রফতানি হয়েছে ২ হাজার ৩৯৮ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার ডলারের, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৮৪০ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ ডলার। এ হিসেবে এ সময় তৈরি পোশাকের রফতানি বেড়েছে ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ। মোট রফতানির প্রায় ৮০ শতাংশই  ছিল তৈরি পোশাক।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি হয়েছে ৬৮ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয় ৫২ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। সে হিসেবে এ জাতীয় পণ্যের রফতানি বেড়েছে ২৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

তবে এ সময় সোনালি আঁশখ্যাত পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি কমেছে। চলতি অর্থবছরের সাত মাসে এসব পণ্যের রফতানির পরিমাণ ছিল ৬৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৭৬ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করেছিল বাংলাদেশ। সে অনুযায়ী এ সময় এসব পণ্যের রফতানি কমেছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

রফতানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে তৈরি পণ্যগুলো রফতানির প্রধান গন্তব্য পশ্চিমা দেশগুলো। কভিড মহামারীর অভিঘাত কাটিয়ে দেশগুলোর বাজার চাঙ্গা হতে শুরু করেছিল। অনেক দিন নিষ্ক্রিয় থাকা বিক্রয়কেন্দ্রগুলো সক্রিয় হওয়ার পর চাহিদায়ও দেখা যায় উল্লম্ফন। এরই ধারাবাহিকতায় মোট রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধির দেখা পায় বাংলাদেশ। তবে এ প্রবৃদ্ধি টেকসই হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ এরই মধ্যে কভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন আঘাত হেনেছে। তৈরি হয়েছে পশ্চিমা বাজারগুলোর চাহিদা পতনের আশঙ্কা।

এ অবস্থায় রফতানির বর্তমান প্রবৃদ্ধি নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী এ প্রসঙ্গে বলেন, পশ্চিমা বাজারগুলোর চাহিদা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় বিপুল পরিমাণ ক্রয়াদেশ বাংলাদেশে এসেছিল। এছাড়া করোনা মহামারীর মধ্যে সরকারও রফতানি খাতে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করছে। এতে করে উদ্যোক্তারা ক্রয়াদেশ গ্রহণ করে সঠিক সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পেরেছেন। তাই সার্বিকভাবে রফতানি বেড়েছে। তবে বর্তমানে আবার বিশ্বজুড়ে কভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের পাশাপাশি কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও পণ্য পরিবহনে খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় এ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাটা চ্যালেঞ্জ হবে।

এজন্য সরকারের ভর্তুকি সুদে রফতানি খাতকে সহায়তা হিসেবে দেয়া ঋণ পরিশোধে আরো বেশি সময় প্রয়োজন বলে মনে করছেন এ ব্যবসায়ী নেতা।

নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আলোচ্য সময়ে আরো বেশি মূল্যের পোশাক রফতানি হওয়ার কথা ছিল। কারণ গত বছরের তুলনায় বর্তমানে সুতার দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। সুতরাং গত বছরের সমান পোশাক রফতানি হলেও অর্থমূল্যে অন্তত ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা। কিন্তু উদ্যোক্তারা ক্রয়াদেশ ধরে রাখতে কম মূল্যে পণ্য রফতানি করেছেন, তাই সে পরিমাণ প্রবৃদ্ধি আসেনি। তবে এখন আমাদের হাতে অনেক কাজ রয়েছে। তাই আগামীতে দরকষাকষির সুযোগ রয়েছে। এতে প্রত্যাশা করা যায়, সামনের দিনগুলোয় রফতানি আরো বাড়বে।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//