
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: ব্যবহারকারী ধরে রাখার তুমুল প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে ফেসবুক। প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির ব্যবহারকারী কমেছে। পাশাপাশি এ সময়ে পূর্বাভাস অনুযায়ী মুনাফা করতেও ব্যর্থ হয়েছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। ফলে সংস্থাটির শেয়ারদরে পতন দেখা দেয়। এ অবস্থায় সংস্থাটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের সম্পদও কমেছে। পুঁজিবাজারে পতনের কারণে একদিনেই বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এ ধনকুবের ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার হারিয়েছেন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, অ্যাপলের গোপনীয়তা নীতির পরিবর্তন ও প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় বছরের শেষ তিন মাসে ফেসবুকের ব্যবহারকারী কমেছে। সংস্থাটির দৈনিক ব্যবহারকারী আগের প্রান্তিকের ১৯৩ কোটি থেকে চতুর্থ প্রান্তিকে ১৯২ কোটি ৯০ লাখে নেমেছে। এদিকে অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে বিশ্লেষকরা মেটার শেয়ারপ্রতি আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন ৩ ডলার ৮৪ সেন্ট। যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির শেয়ারপ্রতি আয় ৩ ডলার ৬৭ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
এ খবরের পর পুঁজিবাজারে মেটার শেয়ারদরে পতন দেখা দেয়। ফোর্বস অনুসারে, বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর ২৬ শতাংশ কমে যায়। এ পতনের কারণে একদিনেই মেটার বাজারমূল্য ২০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মুছে গেছে। ফলে একদিনেই মার্ক জাকারবার্গের নিট সম্পদ ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার কমেছে। এ নিয়ে জাকারবার্গের মোট সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে নেমেছে। মার্ক জাকারবার্গ মেটার ১২ দশমিক ৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক।
এদিকে মেটার শেয়ারদরে পতন হলেও আরেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের শেয়ারদরে উল্লম্ফন দেখা দেয়। চতুর্থ প্রান্তিকে বিপুল পরিমাণ মুনাফার প্রতিবেদন প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার সংস্থাটির শেয়ারদর বেড়েছে। এদিন আরেক মার্কিন বিলিয়নেয়ার ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের নিট সম্পদে ২ হাজার কোটি ডলার যুক্ত হয়েছে।
রিফিনিটিভের ডাটা অনুসারে, অনলাইনভিত্তিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের প্রায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশের মালিকানা রয়েছেন জেফ বেজোসের। ফোর্বসের মতে, তিনি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তিও। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রিভিয়ানে বিনিয়োগের কারণে চতুর্থ প্রান্তিকে অ্যামাজনের মুনাফা বেড়েছে। রেকর্ড আয় ও মুনাফার প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের প্রাইম সাবস্ক্রিপশনের বার্ষিক মূল্য বাড়ানো হবে। এ খবরের পর সংস্থাটির শেয়ারদর ১৫ শতাংশ বেড়ে যায়। ২০০৯ সালের অক্টোবরের পর এটিই সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন।
ফোর্বস অনুসারে, ২০২১ সালে জেফ বেজোসের নিট সম্পদ আগের বছরের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেড়ে ১৭ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। মহামারীর ঘরবন্দি সময়ে মানুষ অনলাইন কেনাকাটার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় গত বছর লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে অ্যামাজনের শেয়ারদর।
এদিকে মার্ক জাকারবার্গের সম্পদে একদিনে এ পতন এখন পর্যন্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত নভেম্বরে টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্ক একদিনে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার হারিয়েছিলেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী টুইটারে শেয়ার বিক্রি করার জরিপ চালানোর পর টেসলার শেয়ারদরে পতন দেখা দেয়। তারও আগে ২০১৯ সালে ম্যাকেঞ্জি স্কটের সঙ্গে বিচ্ছেদের খবরে জেফ বেজোস একদিনে ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের সম্পদ হারিয়েছিলেন।
২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার কমে যাওয়ায় মার্ক জাকারবার্গ ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নেয়ারদের তালিকায় দ্বাদশ স্থানে রয়েছেন। সম্পদের দিক থেকে তিনি এখন ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির নিচে চলে গেছেন।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//