
নিজস্ব প্রতিবেদক: টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফারের (টিটি) মাধ্যমে বিদেশ থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করতে পারবেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। এমন বিধান রেখে ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২১-২৪’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নতুন আমদানি আদেশে কিছু পণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আবার কিছু পণ্য আমদানি সহজ করা হয়েছে। এতদিন টিটির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করা যেত। এটাকে বাড়িয়ে এখন ৫ লাখ ডলার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, যারা শিল্পপতি তারা যেকোনো পরিমাণের জিনিস বা ইকুইপমেন্টে ইনভেস্টমেন্ট করতে পারবেন। কেউ রেফ্রিজারেটরের পার্টসের ব্যবসা করেন, তিনি এলসি করে যেকোনো পরিমাণের পণ্য আনতে পারবেন। কিন্তু টিটির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলারের জিনিস আনতে পারবেন। টিটি করে জিনিস আনা খুব সহজ। সেজন্য ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত ছাড় দেয়া হয়েছে। এটা ব্যক্তিগত ব্যবহার বা ইন্ডাস্ট্রির জন্য না, ব্যবসার জন্য।
কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ফিউমিগেশন পদ্ধতি তুলে দিতে আন্তর্জাতিক মাধ্যম থেকে অনুরোধ জানালেও সরকার তাতে রাজি হয়নি বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, ফিউমিগেশন হলো, আমরা যখন কোনো কৃষিপণ্য আনি, তখন ওটার মধ্যে কোনো ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস
আছে কিনা এটা আমাদের এখানে এপিডেমিক (মহামারী) করবে কিনা। ফিউমিগেশন সিস্টেমটা তুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বারবার অনুরোধ করেছে। কিন্তু আমাদের এক্সপার্টদের কথা হচ্ছে আমেরিকার তুলার মধ্যে এক ধরনের পোকা থাকে। এ পোকা যদি এয়ারে চলে যায়, তাহলে আমাদের ওপর মারাত্মক খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। এ পদ্ধতিটা বহাল রাখা হয়েছে।
তবে আমরা তাদের বলেছি, তাহলে তোমরা সার্টিফিকেট দেবে এ স্টেটের এ তুলা সম্পূর্ণ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত। সেটা যদি দেয়, তখন দেখা যাবে কী করা যায়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো বলেন, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি বা বিনিময় কমার কারণ ছাড়া কোনো পণ্যের দাম বাড়লে অথবা আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়লে স্থানীয় পর্যায়ে যদি মূল্য অসমানুপাতিক হারে বাড়ে তাহলে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
তবে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী তরুণদের হতাশ করেছে নতুন আমদানি নীতি আদেশ। এ নীতি আদেশে আগের মতোই ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বে সব ধরনের মোটরসাইকেল আমদানি নিষিদ্ধ রেখেছে সরকার। তবে মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ৫০০ সিসি পর্যন্ত উৎপাদন করতে যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানি করতে পারবে।
নতুন আমদানি নীতিতে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য নমুনা আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। তবে জুতা, চামড়াসহ অন্যান্য রফতানিমুখী খাতের জন্য নমুনা আমদানির সীমা অপরিবর্তিত থাকছে। বর্তমানে তৈরি পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি ক্যাটাগরিতে ১২টি করে সর্বোচ্চ ৭০০ নমুনা আমদানির সুযোগ পায়। এটি বাড়িয়ে প্রতি ক্যাটাগরিতে ১৫টি করে সর্বোচ্চ দেড় হাজার নমুনা আমদানির সুযোগ দেয়া হয়েছে।
বিদ্যমান নীতি আদেশে সব ধরনের নিটওয়্যার ও ওভেন পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত রয়েছে। অর্থাৎ ১০০ ডলারের পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮০ ডলারের কাঁচামাল আমদানি করা যেত। আর প্রতি ডজন পোশাক রফতানির এফওবি মূল্য ৬০ ডলার বা তার বেশি হলে ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত ছিল। আর শিশু পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত রয়েছে।
নতুন নীতি আদেশে বলা হয়েছে, প্রতি ডজন নিট ও ওভেনের এফওবি মূল্য ৬০ ডলার পর্যন্ত হলে ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতে হবে। আর প্রতি ডজনের এফওবি মূল্য ৬০ ডলারের বেশি হলে ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্তারোপ করা হয়েছে। শিশু পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজনের শর্ত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//