
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: করোনাসময়ে অস্থিতিশীল বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং মুদ্রাস্ফীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে লেগেছে প্রবৃদ্ধির হাওয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেরে পর ব্রিটিশ অর্থনীতির বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার এযাবৎকালে সর্বোচ্চ। ২০২১ সালে ব্রিটিশ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
করোনাসময়ের লকডাউন তুলে দেওয়া এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ায় ভোক্তা চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। এ ছাড়াও সরকারের সর্বোচ্চ হারের প্রণোদনাও প্রবৃদ্ধিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
মহামারির শুরুতেই ২০২০ সালে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৯ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়। এ ছাড়াও অমিক্রনের প্রভাবেও সৃষ্টি হয় মন্দাভাব। তবে এসব কাটিয়ে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।
যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস (ওএনএস) জানিয়েছে, ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক উৎপাদন দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যদিও এই সংকোচনের গতি প্রত্যাশার চেয়ে কম। বড়দিনের ছুটিতে দোকানে পণ্যের ঘাটতি ও রেকর্ডসংখ্যক চাকরির শূন্যপদ অর্থনীতির চাকা শ্লথ করে দেয়।
অমিক্রনকালে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছিলেন, বছর শেষে জিডিপির হার দশমিক ৬ শতাংশ কমে আসবে। তবে তাদের আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করে দিয়ে বছর শেষে ১ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত টিকাদান প্রক্রিয়া বিস্তৃতকরণ এবং নতুন করে লকডাউনে না যাওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে দেশটির অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক বিবিসিকে বলেন, আমি জানি, মানুষ এখন ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কিত। বিশেষ করে জ্বালানির ব্যয় হুহু করে বাড়ছে। সে জন্য জ্বালানির দাম মেটাতে হিমশিম খাওয়া মানুষকে সহায়তা দিতে গত সপ্তাহে আমরা বড় আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি।
যদিও ২০২০ সালের জিডিপির সংকোচনের পর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ২০১৯ সালের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি, তবু প্রবৃদ্ধির এই বর্ধনশীল প্রবণতা ইতিবাচক কিছু একটার আভাস দিচ্ছে বলে সহজেই ধারণা করা যায়।
সূত্র- দ্য গার্ডিয়ান/বিবিসি
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//