
নিজস্ব প্রতিবেদক: অবৈধভাবে অতিরিক্ত চাল মজুতের তথ্য নেই। এরপরও চিকন চালের দাম বাড়ছে, এ চালের উৎপাদনের চেয়ে ভোক্তা বেশি হওয়ায় দাম বাড়ছে বলে জানান খাদ্য সচিব নাজমানারা খানুম। বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করলে দাম কমবে। শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। তবে সরকারিভাবে এখনো আমদানির অনুমতি নেই বলেও জানান খাদ্য সচিব।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত থাকার পরও চালসহ খাদ্যপণ্যে দাম বেশি। বিশেষ করে সরু চালের দাম এখনো বাড়ছে।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বেড়েছে, শিপিংসহ সব পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। তবে সিন্ডিকেটের কারণে চালের দামে প্রভাব পড়েনি। চাল আমদানি করলে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হতে পারে। তবে এখনো চাল আমদানির অনুমতি নেই।
সরকারি তথ্যানুসারে, চলতি বছর আমনের ভালো ফলন হয়েছে। সেই সঙ্গে সর্বশেষ বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদনের রেকর্ড হওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে চালের মজুত সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকলেও সম্প্রতি দফায় দফায় বেড়েছে চালের দাম। একই সঙ্গে ভরা মৌসুমেও বাজারে প্রতিটি সবজির দাম চড়া। এদিকে রমজান মাস সামনে রেখে পণ্যমূল্য আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এমন পরিস্থিতিতে বর্তমানে দেশে চালের মজুত ২০ লাখ টনের ওপরে থাকার পরও কেন মূল্য আকাশছোঁয়া। এ নিয়ে সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহীতে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার নিজেই ক্ষোভের কথা জানান। একই কারণে কয়েক মন্ত্রী বিভিন্ন আয়োজনে পণ্যমূল্য না কমায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, দেশের সরকারি খাদ্য গুদামের ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ২১ লাখ মেট্রিক টনের বিপরীতে বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত খাদ্য মজুদের পরিমাণ ২০ লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ১৭ লাখ ৩৩ হাজার টন ও গমের পরিমাণ ২ লাখ ৭১ হাজার টন। এটি এখন পর্যন্ত মজুতের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এ অবস্থায় দেশে খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা থাকলেও দফায় দফায় বেড়েছে চালের দাম।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//