
মুনতাসীর মামুন: মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হলো স্বাস্হ্য। কথায় আছে স্বাস্হ্যই সকল সুখের মূল অর্থাৎ স্বাস্হ্য ভালো না থাকলে টাকা পয়সা, সম্পত্তি, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান কোনো কিছুই ভাল লাগে না। জনস্বাস্হ্য ভালো থাকলে জনশক্তি উন্নত হয়, আর উন্নত জনশক্তির উপর নির্ভর করে একটা দেশের উন্নতি। বাংলাদেশের রুগ্ন জনশক্তির মুল কারণ হলো জনস্বাস্হ্য রক্ষা যাদের দায়িত্ব সেখানে ব্যবস্হাপনায় প্রচণ্ড দুর্বলতা, সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের অভাব।
স্বাস্হ্য খাতের দুর্বলতাগুলো হলো ১. ডাটাবেজ না থাকা- কোথায় কোন রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি, এর কারণ ও প্রতিকারে করণীয়, প্রতিবছর কত মানুষ কোন কোন রোগের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছে এবং তাতে কি পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হচ্ছে ইত্যাদির ডাটাবেইজের অভাব। ২. বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাব এবং যা আছে তা আবার ছোট শহরগুলোতে একেবারেই নেই। ৩. জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল গুলোতে প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি ও তা চালনার জন্য প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব। ৪. দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা। ৫. সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের অভাব।
দুর্বলতাগুলো দূরীকরণে করণীয়
ডাটাবেজ তৈরির দায়িত্ব স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের এবং তাদের জন্য এই কাজটি সহজ কারণ তারা সরাসরি সরকারি হাসপাতালগুলো পরোক্ষভাবে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। স্বাস্হ্য অধিদপ্তর নির্দেশনা জারি করবে যাতে বাধ্যতামূলেকভাবে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতি মাসে কোন রোগ নিয়ে কত জন ভর্তি হলো ও মারা গেল, এবং তাদের বসবাসের ঠিকানা, বয়স ও লিঙ্গ ইত্যাদির ডাটাবেজ তৈরি করে স্বাস্হ্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করার জন্য , অধিদপ্তেরের একটি সেল থাকবে যারা সারাদেশের সারা বছরের ডাটাবেজগুলো সমন্বয় করে কোথায়, কোন বয়সের ও কোন লিঙ্গের লোকদের কোন রোগ বেশি হচ্ছে তার পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করা।
অধিদপ্তরের আর একটা সেল থাকবে এই ডাটাবেইজ নিয়ে যারা গবেষণা কোন এলাকায়, কোন বয়সের ও কোন লিঙ্গের কোন রোগ বেশি হচ্ছে এবং কেন হচ্ছে , কারণ নির্ণয় করতে পারলে প্রতিকারের জন্য সরকারকে সুপারিশ করতে পারবে। সরকার রোগ প্রতিকারের জন্য বিনিয়োগ করলে প্রচুর পরিমাণে চিকিৎসা ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।
অন্য দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিমানবন্দরের বহির্গমন বিভাগে নির্দেশনা জারি কবরে তারা যেন কোন রোগের চিকিৎসায় কোন দেশে যাচ্ছে ও কত টাকা নিয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করে স্বাস্হ্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করে। স্বাস্হ্য অধিদপ্তর মন্ত্রণালয় ও সরকারের সহযোগিতায় ঐসব রোগের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাড়াবে ও অবকাঠামো নির্মাণ করবে।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ঘাটতি পূরণে করণীয়
প্রতি বছর বিভিন্ন মেডিকেল থেকে পাশ করা সর্বোচ্চ মেধাবী ২০০ ডাক্তারকে বাছাই করে সরকারি খরচে বিভিন্ন বিষয়ে যে সব রোগের প্রার্দুভাব বেশি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য ব্রিটেনে পাঠাতে হবে এবং শর্ত থাকবে তারা ডিগ্রি শেষে দেশে ফিরতে অবশ্য বাধ্য থাকবে ও জেলা উপজেলা পর্যায়ে ৫ বছর কাজ করবে এবং তাদের উচ্চতর বেতন স্কেলের ব্যবস্হা করতে হবে। ধনী গরিব নির্বিশেষে সবাইকে স্বাস্হ্য সেবা প্রদানের জন্য স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনতে হবে এবং কার্ড পাঞ্চ করে সবাই ডাক্তার দেখাবে, সবার জন্য পারিবারিক এমবিবিএস ডাক্তার থাকবে এবং তার রিকমেন্ডশন ব্যতীত টাকা থাকলেই কেউ জ্বর সর্দি নিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পারবে না, যা উন্নত দেশগুলোতে অনুসরণ করা হয়। তাতে করে রোগের সিরিয়াসনেস এর উপর ভিত্তি করে সকলেরই সঠিক ডাক্তার পাওয়ার সুয়োগ থাকে। প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নার্স ও টেকনোলজিষ্ট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করতে হবে ও আধুনিক য্ন্ত্রপাতি চালনার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বর্তমানে বিনিয়োগের একটা বড় অংশ খেয়ে ফেলে দূর্নীতিবাজ সরকারি ও বেসরকারি সিন্ডিকেট, এই সিন্ডিকেট কঠোর হস্তে দমন করতে হবে, অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সর্বোচ্চ সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করত হবে। বিষয়গুলো আমলে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে সৎ, দক্ষ ও আন্তরিক হতে হবে।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল/এসএএম//