Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Thursday, 03 Mar 2022 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক: রফতানিতে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় ছিল ফেব্রুয়ারিতেও। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ সময় বাংলাদেশ থেকে মোট রফতানি হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৪ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থমূল্য বিবেচনায় বাংলাদেশে তৈরি ও রফতানি হওয়া শীর্ষ তিন পণ্য পোশাক, পাট ও পাটজাত এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের মোট রফতানির ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশ জুড়েই ছিল এ তিন পণ্য। এ আধিপত্য বজায় রয়েছে চলতি অর্থবছরেও। তবে পরিবর্তন এসেছে রফতানির গতিতে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম আট মাস শেষে পোশাকের রফতানি বেড়েছে ৩০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ সময় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানিও বেড়েছে ২৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। যদিও পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি কমেছে ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত রফতানি পরিসংখ্যান হালনাগাদ করে থাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ইপিবি। গতকালই এর সর্বশেষ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে শীর্ষ তিন পণ্যের মধ্যে পোশাক রফতানির অর্থমূল্য ছিল ২ হাজার ৪৪৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয় ২ হাজার ১০৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের। এ হিসেবে রফতানি বেড়েছে ৩০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। মোট রফতানির ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশই ছিল তৈরি পোশাক।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি চলতি অর্থবছরের আট মাসে হয়েছে ৭৮ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয় ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য। এ হিসেবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বেড়েছে ২৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।

এদিকে পোশাক এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বাড়লেও কমেছে বাংলাদেশের সোনালি আঁশ খ্যাত পাট ও পাটজাত পণ্যের। এ পণ্যের রফতানি চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৭৯ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয় ৮৬ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। এ হিসেবে পণ্যটি রফতানিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে বা কমেছে ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

তবে রফতানির বর্তমান প্রবৃদ্ধি নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন রফতানি খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে তৈরি পণ্যগুলো রফতানির প্রধান গন্তব্য পশ্চিমা দেশগুলো। কভিড মহামারীর অভিঘাত কাটিয়ে দেশগুলোর বাজার চাঙ্গা হতে শুরু করেছিল। অনেক দিন নিষ্ক্রিয় থাকা বিক্রয়কেন্দ্রগুলো সক্রিয় হওয়ার পর চাহিদার উল্লম্ফনও দেখা গিয়েছিল, যার প্রতিফলন হিসেবে মোট রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি দেখতে পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে এ প্রবৃদ্ধি টেকসই হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ এরই মধ্যে কভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন আঘাত হেনেছে, যার প্রভাবে পশ্চিমা বাজারগুলোর চাহিদায় ভাটার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, পশ্চিমা বাজারগুলোর চাহিদা বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবে বিপুল পরিমাণ ক্রয়াদেশ বাংলাদেশে এসেছে। এছাড়া করোনা মহামারীর মধ্যে সরকার রফতানি খাতে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করায় উদ্যোক্তারা সে ক্রয়াদেশ গ্রহণ করে সঠিক সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পেরেছে। তাই সার্বিকভাবে রফতানি বেড়েছে। বর্তমানে পণ্য পরিবহনে খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় এ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাটা চ্যালেঞ্জ হবে।

এদিকে ইপিবির মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সদ্যসমাপ্ত ফেব্রুয়ারিতে রফতানি প্রবৃদ্ধি হার ৩৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। রফতানি হয়েছে ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের পণ্য। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রফতানি হয় ৩১৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//