
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভাটা পড়বে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। এতে বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর দরিদ্র জনগোষ্ঠী সংকটের সম্মুখীন হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ আমাদের একটি খারাপ সময়ের দিকে ধাবিত করছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়তে শুরু করেছে। বাজার হয়ে উঠছে অস্থিতিশীল।’
এ ছাড়াও মানুষের জীবন একের পর এক হুমকির মুখে পড়ছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন মালপাস। একটি যুদ্ধে হাজার হাজার সৈনিক ও সাধারণ মানুষের মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
মালপাস বলেন, ‘যুদ্ধ শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেনের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে সারা বিশ্বে। বিশেষ করে যারা স্বল্প আয়ের মানুষ, মুদ্রাস্ফীতির ভারে তাদের জীবন জর্জরিত হয়ে যাবে।’
বিশেষ করে অনুন্নত দেশগুলোর দরিদ্র সম্প্রদায়ের খাদ্যের চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খেতে হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন মালপাস।
রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্বের দুটি বৃহৎ উৎপাদনকারী দেশ। বিশেষ করে সূর্যমুখী তেল উৎপাদনে ইউক্রেন প্রথম ও রাশিয়া দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বলে জানায় এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্যাটস। বিশ্বের ৬০ শতাংশ সূর্যমুখী তেলের জোগান আসে মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন থেকে।
এ ছাড়াও বৈশ্বিক গম উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন। বিশ্বের ২৯ শতাংশ গম রফতানি করে থাকে এ দুটি দেশ। যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে গমের দাম বিগত ১৪ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে।
মালপাস বলেন, এই যুদ্ধের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কোনো উপায় নেই। সরবরাহ চেইনে সংকট সৃষ্টি হলে মূল্যস্ফীতি আরও প্রকট আকার ধারণ করবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন মালপাস।
এ ছাড়াও রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় পশ্চিমা দেশগুলোও বিপদে পড়তে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মালপাস। বিশেষ করে ইউরোপের বিদ্যুত খাত সরাসরি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। আর রাশিয়া প্রায় ৩৯ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানির জোগান দিয়ে থাকে। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটলে সমগ্র ইউরোপে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে বিদ্যুতের জন্য যদি পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়া বাদে অন্য কোনো পন্থা বেছে নেয়, তাহলে রাশিয়া স্থায়ীভাবে ইউরোপে তাদের বাজার হারাবে বলে মন্তব্য করেছেন মালপাস। এমনিতেই এ কদিনে রাশিয়ান মুদ্রার মান অনেক নিচে নেমে গেছে। এ ছাড়াও সুইফট থেকে রাশিয়াকে বের করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার ব্যাংকিং ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইউক্রেন বিপ্লবের পর আগত নতুন সরকারকে বিশ্বব্যাংক সাহায্য করতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত দেশটিকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ঋণের অর্থে ইউক্রেন মূলত তাদের বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণ করেছে ও ব্যাংকিং খাতকে সমৃদ্ধ করেছে।
যুদ্ধে ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের অর্থ উপদেষ্টা আলেকজান্ডার রোদনায়েস্কি বলেন, ‘যুদ্ধটি আমাদের অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। আমাদের ব্রিজ, রাস্তাঘাট ও স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঠিক কতটা বছর আর কতটা অর্থের প্রয়োজন হবে আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তা আর কল্পনা করা যাচ্ছে না।’
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//