
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: কভিডের বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্রুতগতিতে বেড়েছে অর্থনৈতিক কার্যক্রম। তৈরি হয়েছে তুমুল ভোক্তা চাহিদা। চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে বিপুল পরিমাণ আমদানি করতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে। যদিও সংকোচনের মুখে পড়েছে রফতানি। এ অবস্থায় দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৮ হাজার ৯৭০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের আগেই জানুয়ারিতে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। যানবাহন ও জ্বালানির তুমুল চাহিদা দেশটির আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্রবমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও আমদানি ব্যয় বাড়াতে সহায়তা করেছে। তবে এ সময়ে সংকোচনের মুখে পড়েছে রফতানি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুসারে, জানুয়ারিতে পণ্য ও পরিষেবায় বৈদেশিক বাণিজ্যের ব্যবধান ৮ হাজার ৯৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ঘাটতির এ পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এর আগে ডিসেম্বরে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৮ হাজার ৭০ কোটি ডলার বলা হলেও পরবর্তী সময়ে সংশোধন করে ৮ হাজার ২০০ কোটি ডলার করা হয়। এটিই ছিল পূর্ববর্তী বাণিজ্য ঘাটতির সর্বোচ্চ রেকর্ড। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা জানুয়ারিতে ৮ হাজার ৭১০ কোটি ডলার বাণিজ্য ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি ব্যয় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৩১ হাজার ৪১০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এ সময়ে পণ্য আমদানি ব্যয় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২৬ হাজার ৪৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ ব্যয় দেশটির ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ। এক্ষেত্রে খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের রেকর্ড আমদানি দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করেছে। জানুয়ারিতে ৯৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লিখিত মাসে পেট্রোলিয়ামের বাইরের পণ্য আমদানি ব্যয়ও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ব্যবসাগুলো শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে পণ্য আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া শ্রমিক সংকটে বন্দরে আটকে থাকায় আমদানি ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে উচ্চ কাঁচামাল ব্যয় ও জাহাজের ভাড়া অতিরিক্ত চাপ যুক্ত করেছে। জানুয়ারিতে পরিষেবা আমদানি ১০০ কোটি ডলার কমে ৪ হাজার ৯৩০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। পরিবহন ও ভ্রমণের কারণে পরিষেবা আমদানি সংকুচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের ঘটনায় চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে সীমিত হবে বলে আশাবাদী অর্থনীতিবিদরা। এ সংকটে আমদানি ব্যয় আরো বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা। যদিও ইউক্রেন সংকটের শুরু থেকেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র রুশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। ফলে জ্বালানির দাম আরো বেড়ে যাবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অর্থাৎ বেড়ে যাবে জ্বালানি আমদানি ব্যয়ও।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আমহার্স্ট পিয়ারপয়েন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্টিফেন স্ট্যানলি বলেন, আমদানি বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ভোক্তা চাহিদাকে প্রতিফলিত করে। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট এবং অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দাম বৃদ্ধি আগামী মাসগুলোয় আমদানি ব্যয়কে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।
এদিকে জানুয়ারিতে দেশটির রফতানি আয় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ২২ হাজার ৪৪০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। পণ্য রফতানি ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১৫ হাজার ৫৯০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে ফার্মাসিউটিক্যালসহ ভোক্তা পণ্যের রফতানি নিম্নমুখী হয়েছে। পাশাপাশি পরিষেবা রফতানিও কমে ৬ হাজার ৮৫০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//