
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: দীর্ঘ ১৫ বছর ট্রেনের টিকিট বিক্রি করেছে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস)। সম্প্রতি নতুন হওয়া চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির পরিবর্তে এ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে ‘সহজ লিমিটেড’। দায়িত্ব হস্তান্তরে সময় লাগবে পাঁচদিন। অর্থাৎ, সোমবার থেকে শুক্রবার (২১ মার্চ-২৫ মার্চ) পর্যন্ত অনলাইনের পরিবর্তে রেলস্টেশনে গিয়েই কাটতে হবে ট্রেনের টিকিট।
এদিকে, এ পাঁচদিন শতভাগ টিকিট স্টেশন থেকে সরবরাহের সিদ্ধান্ত হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। এতে প্রতিটি ট্রেনের টিকিট পেতে যোগাযোগ করতে হবে ভিন্ন ভিন্ন কাউন্টারে।
রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তার দফতর থেকে জানানো হয়েছে, টিকিট বিক্রিতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা রাখতেই এ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন ট্রেনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ১২টি কাউন্টার।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের টিকিট এক নম্বর কাউন্টারে, একই রুটের উদয়ন এক্সপ্রেসের টিকিট দুই নম্বর কাউন্টারে, চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের তূর্ণা এক্সপ্রেসের টিকিট তিন নম্বর কাউন্টারে, একই রুটের মহানগর এক্সপ্রেসের টিকির চার নম্বর কাউন্টারে ও মহানগর গোধূলীর টিকিট পাঁচ নম্বর কাউন্টারে, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটের বিজয় এক্সপ্রেসের টিকিট ছয় নম্বর কাউন্টারে এবং চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের মেঘনা এক্সপ্রেসের টিকিট সাত নম্বর কাউন্টারে বিক্রি হবে।
এছাড়া অন্যান্য রুটের মেইল ট্রেনের টিকিট নয় নম্বর কাউন্টারে, চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের চট্টলা এক্সপ্রেসের টিকির ১০ নম্বর কাউন্টারে এবং একই রুটের বিরতিহীন ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি হবে স্টেশনের রিজার্ভেশন কাউন্টারে।
টিকিটিং সম্পূর্ণ নতুনভাবে শুরু হতে যাওয়ায় পাঁচদিন কাউন্টারে প্রিন্ট করা টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন রেলস্টেশন সংশ্লিষ্টরা। এ পাঁচদিন নতুন নিয়মে দেওয়া হচ্ছে হাতের লেখা টিকিট। এ কাগজের টিকিটে সিট নম্বর হাতে লিখে দেওয়া হবে। সিট নম্বর অনুযায়ী কাউন্টারে থাকা শিটে সেই নম্বরটি কেটে দেওয়া হবে। এছাড়া পাঁচদিনের অগ্রিম টিকিট প্রাপ্তির নিয়ম থাকলেও এ সময়ে মিলবে দুদিনের অগ্রিম টিকিট।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী বলেন, পাঁচদিন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রি হবে। এ সময়ে যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১২টি কাউন্টারকে ভিন্ন ভিন্ন ট্রেনের জন্য নির্ধারণ করে বুকিং সহকারীদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে কম্পিউটার ভিত্তিক টিকেটিং সিস্টেম চালু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রথম পর্যায়ে ২৭টি স্টেশনে কম্পিউটারের মাধ্যমে টিকিট ইস্যু করা শুরু হয়। বর্তমানে ৭৭টি স্টেশনে ১০৪টি আন্তনগর ট্রেনের টিকিট কম্পিউটারের মাধ্যমে ইস্যু করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৯০ হাজার যাত্রীর টিকিট কম্পিউটারের মাধ্যমে ইস্যু করা হয়। মাসে যা দাঁড়ায় ২৭ লাখে।
এসব টিকিটের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ, প্রায় ১৩ লাখ টিকিট ইস্যু করা হয় অনলাইন-মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে। বর্তমানে সেন্ট্রাল সার্ভারের সঙ্গে ৭৭টি স্টেশন যুক্ত থাকায় যেকোনো গন্তব্যের টিকিট যেকোনো স্টেশন থেকে ক্রয় করা যায়। সিস্টেমটি সেন্ট্রালে কম্পিউটারাইজড সিট রিজার্ভেশন ও টিকেটিং সিস্টেম বা সিসিএসআরটিএস নামে পরিচিত।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//