
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ গড় মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ২২ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৬০। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। গতকাল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিবিএসের তথ্যে দেখা গিয়েছে, মূলত সয়াবিন তেল ও ডিম খাদ্যের মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এক লিটার তেল কিনতে ভোক্তার খরচ হয়েছে গড়ে ১৬৯ টাকা ৬৫ পয়সা, আগের মাসে যা ছিল ১৬০ টাকা ১০ পয়সা। এক মাসের ব্যবধানে চিনির দামও বেড়েছে। জানুয়ারিতে ছিল ৮৫ টাকা ১৫ পয়সা, যা ফেব্রুয়ারিতে হয়েছে ৮৬ টাকা ০৮ পয়সা। ফেব্রুয়ারিতে প্রতি হালি ডিমের দাম ১ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩৯ টাকা।
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, এখন কভিড সারা বিশ্বের সমস্যা। সারা বিশ্বেই একই ধরনের সমস্যা। রাশিয়ার যুদ্ধের আগেও মূল্য কম ছিল। আমাদের হতাশাগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ নেই। মূল্যস্ফীতি আমাদের দেশের কারণে শুধু হচ্ছে না। আমাদের দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো। চৈত্র মাসেও দেশের বাজারে পর্যাপ্ত শাকসবজি পাওয়া যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির মূল কারণ আমদানি করা পণ্য।
বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এখন অনেক বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রীলংকায় এখন মূল্যস্ফীতির হার ১৫ দশমিক ১ শতাংশ, পাকিস্তানে ১২ দশমিক ২, ব্রাজিলে ১০ দশমিক ৪, ভেনেজুয়েলায় ৩৪০, আর্জেন্টিনায় ৫২ দশমিক ৩, তুরস্কে ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ৩০ বছরে যুক্তরাজ্যে কখনই ৯ শতাংশের ওপরে মূল্যস্ফীতি দেখেনি। সেই দেশে এখন মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি। সেখানে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। আমরা সুন্দরভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করছি। বৈশ্বিক বাজারে সব খাদ্যপণ্যের দাম ৩২ শতাংশ বেড়েছে। ফলে আমদানীকৃত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিজনিত কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, মূল্যস্ফীতি আমরা অস্বীকার করি না। মূলত বৈশ্বিক কারণেই মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়তি। তবে আমাদের সরকার সফলতার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। মূল্যস্ফীতির ছোবল কমিয়ে আনতে আমরা শুরু করেছি। দেশের নানা স্থানে ট্রাকভর্তি খাবার ঘোরাঘুরি করছে। দেশব্যাপী এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবি পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//