
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: ডলার ও ইউরোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরপরই রাশিয়া জানিয়েছে, বিটকয়েন অর্থাৎ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বন্ধুপ্রতীম দেশগুলো রাশিয়া থেকে গ্যাস কিনতে পারবে। এছাড়াও যাদের নাম রাশিয়ার কাছে কালো তালিকাভুক্ত হয়নি তারা নিজ দেশের মুদ্রা দিয়েও দেশটির সাথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রাশিয়ার উচ্চপদস্থ আইন-প্রণেতা পাভেল জাভালনি জানিয়েছেন, যারা আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ তারা ক্রিপ্টোকারেন্সি কিংবা নিজেদের মুদ্রার মাধ্যমে গ্যাস ক্রয় করতে পারবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ২৪ তারিখে রাশিয়া ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে একের পর এক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে দেশটি। নিষেধাজ্ঞার ঝাঁপটায় চলতি বছরে রাশিয়ান মুদ্রা রুবলের দাম ২০ শতাংশ কমে গেছে।
রাশিয়া এখন পর্যন্ত বিশ্বের গ্যাস রফতানিতে প্রথম সারিতে রয়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেল রফতানিতে রাশিয়ার স্থান দ্বিতীয়।
রাশিয়া শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে চীন ও তুরস্ককে নিজেদের বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানায় জাভালনি।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা চীন ও তুরস্ককে ডলার থেকে বের হয়ে এসে ইউয়ান ও লিরার মাধ্যমে আমাদের রুবলের সঙ্গে বাণিজ্যের প্রস্তাব দিয়েছি। এছাড়াও বাণিজ্যের জন্য আমরা ক্রিপ্টোকারেন্সির পথ খুলে দিয়েছি।
তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিটকয়েনের মাধ্যমে বাণিজ্য রাশিয়ার জন্য যেমন সুবিধাজনক, একইভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
এ ব্যাপারে সিঙ্গাপুর এনার্জি স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের গবেষক ডেভিড ব্রডস্টক বলেন, 'বিটকয়েনের মূল্যমান যেভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পায়, একই তালে এর পতনও ঘটে। চলতি বছরে বিটকয়েনের উত্থান-পতনের হার ছিল ৩০ শতাংশ। এর বিপরীতে ডলার-ইউরোর হার ছিল মাত্র ৫ শতাংশ।'
এছাড়াও চীনে বিটকয়েন ব্যবহারে অনুমোদন না থাকায় দেশটি আপতত রাশিয়ার এই প্রস্তাবে সাড়া দিতে পারবে না, তা সহজেই অনুমেয়।
ক্রিপ্টোকারেন্সি ফার্ম কয়েনবেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রেইন আরমস্ট্রং বলেছেন, রুবলের দাম নেমে যাওয়ায় অনেক রুশ নাগরিক বিটকয়েনের দিকে ঝুঁকছে। এবার স্বয়ং দেশটির সরকার গ্যাস রফতানিতে বিটকয়েনকে প্রচলিত মুদ্রার মর্যাদায় স্থান দিল।
এর আগে যুদ্ধাবস্থায় অন্য দেশগুলোর আচরণের ওপরে ভিত্তি করে রাশিয়া চলতি মাসে বন্ধুত্বপূর্ণ নয় এমন দেশের একটা তালিকা প্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইইউভুক্ত অধিকাংশ দেশ জায়গা করে নিয়েছে অবিশ্বাসীদের তালিকায়। ফলে এসব দেশ রাশিয়া থেকে গ্যাস কিনলে, দাম পরিশোধ করতে হবে রুবল দিয়ে এমনটাই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//