
নিজস্ব প্রতিবেদক: নরসিংদীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে একই সংস্থার তালিকাভুক্ত প্রথম শ্রেণীর একজন ঠিকাদারকে লাঞ্চিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহরের এলজিইডি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগি ঠিকাদারী সংস্থা জননী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো: কাইয়ুম মিয়া এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগে তিনি জানান, তিনি তার মালিকানাধীন মেসার্স জননী এন্টারপ্রাইজ ছাড়াও হাসান ট্রেডার্স নামে ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে তিনি সিডিউল ক্রয়সহ ট্রেন্ডার ড্রপ করেন। টেন্ডারে ন্যূনতম ৫ শতাংশ পারফরমেন্স সিকিউরিটি জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তাকে ১০ শতাংশ পারফরমেন্স সিকিউরিটি জমা দিতে বলা হয় এবং তিনি তা দিয়েই উক্ত টেন্ডার ড্রপ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জমা দেওয়া পারফরমেন্স সিকিউরিটির টাকা ফেরত চাইতে গেলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার আসাদুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে পড়েন ও তার সামনে থাকা চেয়ার হাতে নিয়ে ঠিকাদার কাইয়ুমকে সজোড়ে আঘাত করেন, এতে তিনি মারাত্নক আঘাত পান। এভাবে বিভিন্নভাবে আঘাতের মাধ্যমে তাকে লাঞ্চিত করে অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে ওই প্রকৌশলী মাস্তানীর কায়দায় সিট থেকে উঠে এসে ঠিকাদারকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। একই কায়দায় তাকে লাঞ্চিত করে সিড়ি কোটা পর্যন্ত নিয়ে আসেন, যা এলজিইডি অফিসে ব্যবহৃত সিসি ক্যমেরার ফুটেজে রেকর্ড রয়েছে বলে তিনি জানান।
এমতাবস্থায় এলজিইডি কার্যালয়ের পিয়নসহ অন্যান্য লোকজন কাইয়ুমকে বের করে দিলেও নিজের ক্রোধকে সংবরণ করতে পারেনি প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান। তিনি তার পিছনে ছুটে গিয়ে সিঁড়িতে দুই দুইবার লাথি মারে। নিজের প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে যেতে থাকলে আসাদুজ্জামানও তার পিছনে দৌড়ে প্রধান ফটক পর্যন্ত চলে যায় বলে জানান ভুক্তভোগি ঠিকাদার কাইয়ুম মিয়া। এলজিইডি কার্যালয়ের বাহিরে থাকা সিকিউরিটি গার্ডরা নিরআবহী প্রকৌশলীকে কাইয়ুমের পিছন থেকে ধাওয়া দিয়ে ছুটে যেতে দেখেছে বলেও প্রমান পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নরসিংদী এলজিইডির বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার আসাদুজ্জামানের দূর্ণীতি ও সেচ্ছাচারিতা এ সংস্থায় অতীতের যেকোনো সময়ের রেকর্ডকে হার মানিয়েছে। নামে বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য শুরু করেছেন তিনি। নির্ধারিত অংকের ঘুষ না দিলে তার কাছ থেকে কোনো কাজ আদায় করে আনা দূরূহ ব্যাপার। আর তার এমন অনৈতিক কাজে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা রয়েছে।
জানতে চাইলে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার আসাদুজ্জামান মোঠোফোনে এ ঘটনা অস্বীকার করে বিনিয়োগবার্তাকে বলেন, আমার সাথে কোনো ঠিকাদারের এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।
এদিকে ভুক্তভোগি ঠিকাদার জানান, তিনি এ বিষয়ে ঠিকাদার সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিগিরই এ বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বিনিয়োগবার্তা/এসএইচআর/এসএএম//