
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশটির অর্থনীতি চাপের সম্মুখীন। চলতি মাসে দেশটির ইক্যুইটি, ট্রেজারি বিল এবং পাকিস্তান ইনভেস্টমেন্ট বন্ড (পিআইবি) থেকে অর্থ উধাও হয়ে যাওয়ার কারণে দেশটি থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
পাকিস্তানি পত্রিকা ডন এ প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
শনিবার (২৬ মার্চ) দেশটির স্টেট ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত সমন্বিতভাবে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে চলে গেছে। এরমধ্যে মার্চ মাসেই দেশটি থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার উধাও হয়ে গেছে।
এক্ষেত্রে পাকিস্তান ইনভেস্টমেন্ট বন্ড বা পিআইবিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনেই এর বহিঃপ্রবাহের পরিমাণ ১০২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে পাকিস্তানে করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার এক মাস পরে অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্চ মাসে এ ধরনের ব্যাপক অর্থ বহিঃপ্রবাহ দেখা গিয়েছিল। সে সময় প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রায় কয়েক মাসের মধ্যেই দেশ ছেড়ে চলে যায়।
বর্তমানে প্রধান বৈদেশিক বিনিয়োগের বহিঃপ্রবাহ পিআইবি থেকে হচ্ছে। তিন বছরের মেয়াদে এ বন্ডগুলোয় রিটার্ন বেড়েছে ১১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এছাড়া পাঁচ বছরে বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং দশ বছরে বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
আরও পড়ুন: বিটকয়েনে তেল-গ্যাস রফতানি করতে পারে রাশিয়া
একইভাবে তিন মাসের কাগজপত্রের জন্য ট্রেজারি বিলের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। তাছাড়া ছয় মাসের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ১২ মাসের জন্য ১২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
অর্থ বাজারের ডিলাররা বিশ্বাস করেন, ট্রেজারি বিলে রিটার্ন এবং পিআইবি রিটার্ন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কারণ অন্য কোথাও এ ধরনের উচ্চ হারে কোনো সরকারের গ্যারান্টিযুক্ত ও ঝুঁকিমুক্ত বন্ড পাওয়া যায় না।
এ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট পিআইবি আন্তঃপ্রবাহ ১০৪ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এর মধ্যে এ মাসে এখন পর্যন্ত মাত্র শূন্য দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলার আন্তঃপ্রবাহ হয়েছে।
যদিও এই মাসে ট্রেজারি বিলের আন্তঃপ্রবাহ শূন্য রয়ে গেছে, তবে বহিঃপ্রবাহ ১০০ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
মার্চ মাসে পিআইবি এবং ট্রেজারি বিলের মোট আন্তঃপ্রবাহ শূন্য দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যেখানে দেশীয় বন্ড দুইটির বহিঃপ্রবাহ ৩৫২ মিলিয়ন ডলার। যদি ইক্যুইটি থেকে বহিঃপ্রবাহ গণনা করা হয়, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগের মোট বহিঃপ্রবাহ ছিল ৪০২ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার, যেখানে ক্রমবর্ধমান নেট প্রবাহ ছিল ৩৭৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার। এদিকে মার্চ মাসে ইক্যুইটিতে আন্তঃপ্রবাহ ২৩ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আর পড়ুন: রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের কোনো বিকল্প নেই: কাতার
২৪ মার্চে এক দিনের অর্থ বহিঃপ্রবাহ ৯১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার ইক্যুইটির বিপরীতে ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার ছিল। একই দিনে পিআইবি এবং ট্রেজারি বিল থেকে বহিঃপ্রবাহ যথাক্রমে ৫০ মিলিয়ন ডলার এবং ৩৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার ছিল।
চলতি অর্থবছরে মোট ৬৫৪ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের আন্তঃপ্রবাহের বিপরীতে ইক্যুইটি, পিআইবি এবং ট্রেজারি বিলের ১ দশমিক ৫৫৮ বিলিয়ন ডলার বহিঃপ্রবাহ ঘটেছে। সুতরাং, চলতি অর্থবছরে ক্রমবর্ধমান নেট প্রবাহের পরিমাণ ৯০৪ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন ডলার।
সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য দুই বছর আগে বন্ড চালু করে এবং উভয় বন্ডের উচ্চ রিটার্ন থেকে দৃশ্যমান এ প্রচেষ্টা আজও অব্যাহত রয়েছে।
কিন্তু একের পর এক সংকটের উত্থান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশটিতে থাকতে দেয়নি।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//