Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Tuesday, 05 Apr 2022 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত কয়েক বছরে দেশে অনেক বড় বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের জন্য বিপুল পরিমাণ বিদেশী ঋণ নিয়েছে সরকার। আর এতে দিন দিন সরকারের ওপর বিদেশি ঋণের বোঝা ভারি হতে চলেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নিট বিদেশী ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮-অর্থবছরে নেয়া হয় ২৫ হাজার ৬২০ কোটি ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৪১০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এর পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা।

এদিকে আলোচ্য সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যয়কৃত অর্থের পরিমাণও বেড়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরেও বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৮০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৪ হাজার ৪৫০ কোটি টাকায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বার্ষিক নিট বিদেশী ঋণ গ্রহণের (গৃহীত ঋণ থেকে পরিশোধ বাদ দিয়ে) পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) বাজেটে বার্ষিক নিট বিদেশী ঋণ গ্রহণের প্রাক্কলন রয়েছে ৯৭ হাজার ৭৪০ কোটি টাকার। গত অর্থবছরেও এর পরিমাণ ছিল ৬৮ হাজার ৪১০ কোটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টাকার অংকে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ। রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তৈরি করতে খরচ হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া। বাকি টাকার জোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

এদিকে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন ডুয়াল গেজ রেলপথ তৈরি করা হচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা এডিবির ঋণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে নির্মাণ হচ্ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ৫১ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণের পরিমাণ ৪৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা।

চীনের ঋণে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত প্রায় ১৭০ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ ব্যয় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের ঋণ ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় সরাসরি রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে।

যানজট কমাতে ঢাকায় তৈরি হচ্ছে ছয়টি মেট্রোরেল লাইন। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রথম লাইনটি (এমআরটি লাইন-৬) তৈরিতে ঋণ দিচ্ছে জাইকা। লাইনটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা জাইকার ঋণ।

জাইকার ঋণে যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে রেলওয়ের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে আলাদা সেতু। রেলসেতুটি তৈরি করতে খরচ হচ্ছে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ ১২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা।

টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার মহাসড়কটি ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেনসহ চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে এডিবির ঋণে। সড়কটি তৈরি করতে খরচ হচ্ছে ১৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৪১৮ কোটি ডলার ঋণসহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ৩০০ কোটি ডলার বা ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছিল সরকার। সে হিসেবে আগের অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় এবার একই সময়ে ১০ হাজার ৩০ কোটি টাকা বেশি পেয়েছে বাংলাদেশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এডিবির কাছ থেকে সরকার সর্বোচ্চ ১৭২ কোটি ডলার ঋণ পেয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮২ কোটি ডলার ছাড় করেছে জাইকা। তৃতীয় স্থানে আছে চীন। দেশটি ছাড় করেছে ৪৩ কোটি ডলার। এডিবি থেকে পাওয়া ঋণ দিয়ে দেশে টিকা কিনে আনা হয়েছে। জাইকার অর্থায়নে মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান। চীনের অর্থায়নেও বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে এখন। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রচুর ঋণসহায়তা রয়েছে।

 

জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মো. কাউসার আহাম্মদ বলেন, আমাদের প্রকল্প সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেশি। আগে প্রকল্প ছিল ছোট আকারের। তাই ঋণও ছিল কম। এখন প্রকল্প বড়। ফলে ঋণের আকারও বড়।

তিনি বলেন, ঋণ বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ যেমন বাড়বে আবার লভ্যাংশও বাড়বে। দিন শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেশি হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির সুবিধা যেন সবার কাছে পৌঁছায় সেটার ব্যবস্থাও সরকার নিচ্ছে।

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//