
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখানের মাটির তৈরি দইয়ের পাতিলের কদর বছরজুড়ে। উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের দানিয়াপাড়া গ্রামের ২৬টি পরিবার এ পাতিল তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এ পাতিল রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলাসহ বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। ফলে সারা বছরই তাদের কর্মযজ্ঞ চলতে থাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সিরাজদীখান-নিমতলা সড়কের পাশেই কুমার বাড়িগুলোতে মাটির তৈরি দইয়ের পাতিল রোদে শুকানো হচ্ছে। কেউ বানাচ্ছেন, কেউ রোদে শুকাচ্ছেন, কেউ আগুনে পোড়া দিচ্ছেন।
তারা বলেন, বাপ-দাদার পেশা এখন প্লাস্টিকের পণ্যর কারণে বন্ধের পথে। তবে দইয়ের পাতিলের কদর দিন দিন বেড়েছে বাংলাদেশসহ বিদেশও। তাই তাদের কর্মযজ্ঞ বেড়ে গেছে। সরকারিভাবে সহযোগিতা করলে একদিন বিশ্ববাজার জয় করতে পারে সিরাজদীখানের এই দইয়ের পাতিল।
জানা যায়, কালের বিবর্তণে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। মৃৎশিল্পকে ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কারিগরদের। পূর্ব-পুরুষের পেশা ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত চলছে তাদের সংগ্রাম। এক্ষেত্রে দইয়ের পাতিল এখন তাদের একমাত্র ভরসা। এই পাতিল এখন দেশের বাইরে আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে।
উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকার কুমার লোকনাথ পাল বলেন, জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই মৃৎশিল্পের কাজের সঙ্গে জড়িত আছি। এক সময় মাটির তৈরি পণ্যের অনেক চাহিদা ছিল। এখন আর আগের মতো চাহিদা নেই। শুধু মাত্র মাটির তৈরি দইয়ের পাতিলের চাহিদা আছে। আগে বিভিন্ন ধরনের খেলনা তৈরি করলেও বর্তমানে চাহিদা না থাকায় শুধু মাত্র দইয়ের পাতিল তৈরি করি। আমাদের তৈরি মাটির পাতিলের সুনাম আছে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। পাইকাররা এসে আমাদের তৈরি মাটির পাতিল কিনে নিয়ে যায়। এছাড়াও এ পাতিল আমেরিকাসহ দেশের বাইরের কয়েকটি দেশে পাঠান পাইকাররা।
কুমার নারায়ণ পাল বলেন, এই পাড়ার ২৬টি পরিবার মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত। এ শিল্পের আধুনিকায়নের জন্য সরকারের বিশেষ দৃষ্টি ও ঋণ সহায়তা প্রয়োজন। গত কয়েক বছর চৈত্র সংক্রান্তি মেলা, বৈশাখী মেলা হয়নি। তাই দইয়ের পাতিল ছাড়া অন্য কোনো পণ্য বেচাকেনা হয়নি। তবে এখন দইয়ের পাতিল বেচাকেনার ওপর ভর করে সারা বছর আমাদের জীবন চলে। এখন অনেক দেশে আমাদের তৈরি পাতিল যায়। নিজেরা সরাসরি বিদেশে রফতানি করতে পারলে ভালো হতো। তবে এ বছর হয়তো চৈত্র সংক্রান্তি মেলা, বৈশাখী মেলা হবে। যদি মেলা হয় তা হলে খেলনা তৈরি করবো।
পলাশ পাল বলেন, ১ কেজি ওজনের একটি দইয়ের পাতিল সাড়ে ৫ টাকা, ২ কেজি ওজনের একটি পাতিল ১০ টাকা, ৫ কেজি ওজনের এক পাতিল ১৫ টাকায় পাইকারি বিক্রি করছি। তবে সব খরচ বাদ দিয়ে আকারভেদে ২-৩ টাকা লাভ হয়। প্রতিদিন সংসারের কাজ শেষ করে ১০০ থেকে ১৫০ টি পাতিল তৈরি করা যায়। যদি প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজার না হয় তবে অ্যালুমিনিয়াম এবং প্লাস্টিক সামগ্রীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকা সম্ভব হবে না এ শিল্পের। এ পেশায় জড়িতদের জীবনযাপন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। নয়তো এ শিল্প একদিন বিলুপ্তি হয়ে যাবে।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ডলি রানী নাগ বলেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন থেকে দুই ধাপে ৮০ জন মৃৎশিল্পীকে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। সরকারিভাবে যদি তাদের ঋণ সহয়তা প্রয়োজন হয়, তাহলে তাদেরকে আমরা ঋণ সহয়তা প্রদান করবো। এছাড়া মৃৎশিল্পের বিকাশে আমরা তাদের সবরকম সহয়তাও প্রদান করব।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//