
ড: মিহির কুমার রায়ঃ রমজান মাস পবিত্র, বরকতময়, সংযম ও ধৈর্যের বার্তাবাহী একটি গুরত্বপূর্ণ মাস। এ মাস সিয়াম সাধনার মাস, আত্মশুদ্ধির মাস ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অধীর আগ্রহে এ মাসটির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এই বছর একই মাসে পহেলা বৈশাখ ও মাহে রমজান পড়েছে। রমজানের ফজিলতের কথা কম-বেশি আমরা সবাই জানি; কিন্তু বাস্তবতা হলো দেশের অধিকাংশ ব্যবসায়ী বেশি মুনাফা অর্জনের আশায় এ সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে কোন পণ্য রমজান মাসে বেশি ব্যবহার হবে, রোজাদাররা কোন পণ্যটি দাম বাড়লেও কিনতে চাইবে কিংবা তারা রোজার অনেক আগে থেকেই খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ইত্যাদি। আবার অন্যদিকে দেখা যায়, রমজান মাসটা যেন খাদ্যোৎসবের মাস যেখানে রোজাদাররা বেশি বেশি খাবারের আয়োজনে ব্যস্ত থাকে, দাম যতই বাড়ুক না কেন, বেশি দাম দিয়ে হলেও তা কিনতে হবে, ইফতার বা সেহরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার না-থাকলে রোজা যেন পূর্ণতা পায় না। কেউ কেউ রমজান মাসের কথা চিন্তা করে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ঘরে মজুদ করতে থাকে। ঈদ সামনে রেখে শুরু হয় কেনাকাটার ধুম, রমজানের প্রকৃত ফজিলত নিয়ে তেমনভাবে ভাবনার বিষয় কম দেখা যায়। নিম্ন আয়ের মানুষ এ বছরের মাসটিতে কীভাবে রোজা রাখবে বা উচ্চমূল্য দিয়ে দ্রব্যাদি কিনে কীভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবন নির্বাহ করবে- এটি নিয়ে দেশের অধিকাংশ বিত্তশালীদের কম ভাবতে দেখা যায়। বিশেষত: বিগত বছরটি লকডাউনের কারণে নানা শ্রেণী-পেশার সাধারণ মানুষের আয় কমেছে বিশেষ করে দিনমজুরের আয় বলতে গেলে বন্ধ তথা রমজানের এসময়ে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দামে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে।
অর্থনীতি গবেষণা সংস্থা সানেম বলছে, দেশে দারিদ্র্যের সার্বিক হার বেড়েছে মহামারির আঘাতে যার প্রভাব এখনও রয়েছে। রমজান এলে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের প্রস্তুতি তৈরি হয়, তারা এ পবিত্র মাসে আধ্যাত্মিকভাবে পুণ্য অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নেন, আবার কেউ প্রস্তুতি নেন সেহরি-ইফতার নানা পরিকল্পনায় উদ্যাপনের জন্য। তারা মনে করে এটাই বছর জুড়ে ১২ মাসের মধ্যে অধিকহারে আয় করার একটি মৌসুমের মাস। এমন রীতি ব্যবসায়ী ও আমাদের দেশ থেকে কবে দূর হবে জানি না। রমজান মাসে অন্যান্য মাসের চেয়ে যাতে কম দামে পণ্য কিনতে পারে সেজন্য ব্যবসায়ী ও সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া দরকার। এতে রোজাদারদের দোয়া ও সওয়াব সবার ওপর থাকবে। রমজানে জনগণের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।
পবিত্র ইসলামে অতিরিক্ত মূল্য আদায় কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘ব্যবসায়ীরা যদি সীমাতিরিক্ত মূল্য আদায় করে এ সুযোগে যে, ক্রেতা পণ্যের মূল্য জানে না; তাহলে অতিরিক্ত পরিমাণের মূল্য সুদ হিসেবে গণ্য হবে।’ আবার মজুতদারি সম্পর্কে হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘মজুতদার খুব নিকৃষ্টতম ব্যক্তি। যদি জিনিসপত্রের দাম হ্রাস পায়, তবে তারা চিন্তিত হয়ে পড়ে, আর দাম বেড়ে গেলে আনন্দিত হয়।’ (মেশকাত)। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের অমীয় বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে মাহে রমজান। কিন্তু মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা রমজানের আগেই পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। রমজান মাসে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নানা রকম অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি থাকে। কিন্তু বরাবর দেখা গেছে, কোনো বিশেষ উপলক্ষে বাজারের নাটাই থাকে অশুভ চক্রের হাতে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি ব্যবসায়ীরা থোড়াই কেয়ার করে, তারা পণ্যমূল্য ইচ্ছামতো বাড়িয়ে দেয়। তাই বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবর্তে অসুস্থ পরিবেশ তৈরি হয়। সে কারণে পবিত্র রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য সহনীয় পর্যায় রাখার জন্য সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সব মহল ব্যবসায়ীকে বার বার অনুরোধ করার পরও তাদের সেই প্রতিশ্রুতি কাজে আসে না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে পুরো দেশ অন্য দেশের বাজারে পরিণত|
আর আমাদের দেশেও মানুষে-মানুষে আয়-ব্যয়ের বিস্তর ফারাক। খাদ্য পণ্য ভোগের ক্ষেত্রেও চরম বৈষম্য লক্ষণীয়। বাজারে সব কিছু থরে থরে সাজানো দ্রব্যের কমতি নেই। লাগামহীন মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা নেই। এ জন্য ভোক্তা আইন-আন্দোলন ইত্যাদি থাকলেও বাজার মনিটরিং করার দায়িত্বে নিয়োজিত কাউকে অকুস্থলে খুঁজে পাওয়া যায় কি? অনলাইনে কেনা কাটার জন্য ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার ও টিভি-পত্রিকাও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দিয়ে নিরীহ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। গুদামের পচা খাদ্যশস্য, দোকানের ছেঁড়া ফাটা কাপড়, ভেজাল তেল-ঘি, নকল জুস, হোটেল-রেস্তোরাঁর বাসি-পচা খাবার ইত্যাদি এখন অনলাইনে কেনা কাটার পণ্য দ্রব্য। তাই নিরুপায় মানুষ নিত্য প্রতারিত হতে হচ্ছে অনলাইন কেনা কাটায়। আর গত দুই বছর করোনায় মারাত্মক আঘাতে ঘর বন্দি ছিল মানুষ এখনকার ওপর ভরসা করে কি খেয়ে জীবন নির্বাহ করবে?
পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধসহ সব সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ী যেখানে বিশেষ ছাড় দিয়ে দ্রব্যমূল্য কমিয়ে ধর্মীয় পর্বের উপহার নিয়ে আসেন সাধারণ ক্রেতার কাছে, সেখানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা রমজানে ভোগ্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় নামেন যা কাম্য নয়। যেমন বাংলাদেশে রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই বাড়তে থাকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যা ইতিমধ্যেই প্রত্যক্ষ হচ্ছে পণ্য বাজারে। কেজি প্রতি চালের দাম বেড়েছে পাঁচ-সাত টাকা, ডাল ১০-২০ টাকা, ডিম হালি প্রতি পাঁচ টাকা, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কেজি প্রতি ৫-১০ টাকা, সয়াবিন তেল ২০-২৫ টাকা, ছোলা কেজি প্রতি ১০-২০ টাকা, মাছ কেজি প্রতি ৩০-৫০ টাকা, মুরগি ২০-৫০ টাকা, গরুর মাংসও ক্ষেত্র বিশেষে ২০-৫০ টাকা। এ ছাড়া কাঁচা বাজারের ক্ষেত্রেও ৫-১০ টাকা বেড়েছে যদিও কয়েক মাস খানেক আগেও দাম উচ্চ পর্যায়ে ছিল। নিম্নমুখী আয়ের মানুষের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে নিত্য-নৈমিত্তিক ক্রয় ক্ষমতার ওপর যেখানে দাম স্থিতিশীল থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য তা বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রোজার মাসে কেন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে? উত্তরে বলা হবে যে, চাহিদা বাড়ছে তাই জোগান স্বল্পতায় ভারসাম্য আনতে গিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে। আদৌ কি তাই? পণ্যগুলো কী পরিমাণ লাগবে এগুলো কি আমাদের অজানা? কোন কোন দ্রব্য কী পরিমাণে দরকার তা জানা থাকলে, কেন পণ্যের জোগান স্বল্পতা দেখা যায়? কেন দাম হু-হু করে বেড়ে যায়? নাকি কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করে জোগান স্বল্পতার দোহাই দিচ্ছি আমরা? চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে পূর্ণ মাত্রায় ভারসাম্য বজায় থাকবে। শুধু পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করলেই হবে না, সব পেশার মানুষের ক্রয় ক্ষমতার উপর লক্ষ্য রেখে সরকারকে পণ্যের ন্যায্য মূল্য ঠিক করে দিতে হবে। সংবিধান মতে ভোক্তা সাধারণের জন্য দাম সহনীয় রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের যার জন্য প্রয়োজন ক্রমাগত বাজার ব্যবস্থাপনা ও বাজার মনিটরিং। তার মধ্যেও ব্যতিক্রমও আছে যেমন একজন ব্যবসায়ী বলছেন দোকান খোলা রাখা হয়েছে লাভের জন্য নয়, কেবল বেঁচে থাকার জন্য, কর্মচারীদের বেতন ও দোকানের ভাড়া পরিশোধের জন্য যা জীবনের এক চমৎকার শিক্ষা বলে বিবেচিত।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা-উত্তরকালে বিপর্যস্ত অর্থনীতি, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবিন্যস্ত বন্দর ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে পর্যাপ্ত নিত্য পণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল জরুরি ভিত্তিতে জোগান দেওয়া এবং ন্যায্য মূল্যে নিত্য পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আশির দশকে মুক্তবাজার অর্থনীতি বিকাশের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সীমিত হয়ে আসে যা পরবর্তী সময়ে মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদারে সরকারি উদ্যোগের অপরিহার্যতা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার টিসিবিকে গতিশীল ও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেয়। সংকট কালে ভোক্তাদের কাছে নিত্যপণ্য সরবরাহে বিকল্প বাজার সৃষ্টিতে টিসিবি প্রতিষ্ঠা করা হলেও জনবান্ধব, সরকারি কর্মকর্তা নির্ভর ও ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্বহীন হওয়ার কারণে এ অতি গুরত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সফল হয় নি। তবে বর্তমানে বাড়ছে ই-কমার্সের চাহিদা এবং এখন থেকে অনলাইনেও নিত্য পণ্য যেমন ভোজ্য তেল, ছোলা, চিনি এবং মসুর ডাল বিক্রি করছে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। মাহে রমযানে ঘরে বসে স্বস্তির বাজার কার্যক্রমের আওতায় শুরু হওয়া ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ই-ক্যাব) ডিজিটাল হাট ডট নেট এর ৮টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে এসব পণ্য বিক্রয় শুরু করেছে। টিসিবি ট্রাক সেলের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ন্যায্য মূল্যে দেশব্যাপী বিক্রি করছে বিশেষত স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য। মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ যাতে এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য সরকার ই-কমার্সের সহযোগিতায় ভোজ্য তেল, ছোলা, চিনি এবং ডাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের ঘোষনা মতে এখন প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০৮ টাকা এবং চিনি, ছোলা, ডাল ৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করা হচ্ছে, একজন ক্রেতা সপ্তাহে ৫ লিটার তেল এবং ৩ কেজি করে চিনি, ছোলা, ডাল ক্রয়ের সুযোগ পাবেন। ডেলিভারি খরচ ঢাকা শহরে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজার গবেষকবৃন্দ বলছেন নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে একটি বিষয় সব সময় লক্ষ করা যায় যেমন যখন খুচরা ব্যবসায়ীকে প্রশ্ন করা হয় এ পণ্যের দাম বেশি কেন? তার তাৎক্ষণিক উত্তর হবে পাইকারি বাজারে দাম বেশি বলে। কিন্তু একই বাজারে যখন খুচরা বিক্রির তিন দোকানে তিন রকম দাম দেখা যায়, তখন মনে প্রশ্ন জাগে যা গবেষককে ভাবিয়ে তুলে এর কারন কি? এর মানে হচ্ছে, বাজার মনিটরিং বলতে কিছু নেই। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চাল, চিনি থেকে শুরু করে ভোজ্য তেল খাদ্য ও কৃষি খাতের সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। একই পরিস্থিতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, কয়লাসহ প্রায় সব ধরনের জ্বালানি পণ্যের ক্ষেত্রে। এমনকি কৃষির অপরিহার্য উপকরণ সারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বিশ্ব বাজারে ঊর্ধ্বমুখী মূল্য মানেই এসব পণ্য বাড়তি দামেই কিনতে হবে বাংলাদেশকে। মানুষের জীবন ধারণ, কৃষি, অবকাঠামো, শিল্পসহ পুরো অর্থনীতিতে এর প্রভাব অনেক। আন্তর্জাতিক বাজারের অত্যধিক নির্ভরতায় বার বারই দামজনিত অভিঘাতের সম্মুখীন হতে হয় যার একটা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান জরুরি এবং সেক্ষেত্রে দেশে নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে অন্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো যায় তার দিকে নজর নিতে হবে বিশেষত: রমজান মাসে এর প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি অনুভূত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীও কৃষি পণ্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি বার বার জোর দিচ্ছেন যা বিবেচনায় নিয়ে কৃষি দফতরকে বিশেষ সক্রিয় হতে হবে। ইহা সত্য যে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়লেও বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় না-ও থাকতে পারে যেমন মুক্তবাজার অর্থনীতিতে পণ্যের দাম নির্ভর করে নির্বিঘ্ন ও পর্যাপ্ত সরবরাহের ওপর। দেশে ফড়িয়া, মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির ঘটনা প্রায়ই ঘটে যার ফলে পর্যাপ্ত জোগান থাকলেও দাম বেড়ে যায়। তাই বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে খাদ্যপণ্যের সরকারি মজুদ বৃদ্ধি ও সিন্ডিকেটের কারসাজির দিকেও কড়া দৃষ্টি রাখতে হবে, বাজারে চালাতে হবে নিয়মিত অভিযান, দায়ীদের চিহ্নিত করে নিশ্চিত করতে হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারে রাষ্ট্রের কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত যে কোনো নীতি নির্ধারণীমূলক ক্ষেত্রে ভোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে- যাতে তাদের অধিকারের কথা তুলে ধরতে পারেন। আর কেউ যেন অন্যায়ভাবে অপরের রিজিক কেড়ে না নেয় সেজন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। রমজানের রোজা রেখে মানুষের আত্মশুদ্ধি হোক ও আত্মোপলব্ধি জাগ্রত হয়ে সব পাপ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবার আত্মা জেগে উঠুক। রোজার মহিমায় যাবতীয় অতি মুনাফালোভী, মজুতদার, শঠ ও দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধিকারীদের ভণ্ডামি নস্যাৎ হয়ে যাক।
লেখক: গবেষক, অর্থনীতিবীদ ও সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।