
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহার করে পাথর আমদানি আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে প্রায় ৫০ শতাংশ আমদানি কমেছে নির্মাণসামগ্রী হিসেবে ব্যবহূত পণ্যটির। এর ফলে পাথর আমদানি থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভোমরার বিপরীতে ভারতের ঘোজাডাঙ্গা এলাকায় সিরিয়ালের নামে পাথর বোঝাই ট্রাকে বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে পাথর আমদানি কমে যাচ্ছে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি হয়েছিল ১৭ লাখ ৩২ হাজার ৮৪৩ টন। যার মূল্য ২০২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ সময় পাথর আমদানি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছিল ১০৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে পাথর আমদানির পরিমাণ ৯ লাখ ৫১ হাজার ৮২১ টন, যা বিগত অর্থবছরের এ সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরের এ সময়ে আমদানীকৃত পাথরের মূল্য ১১৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। এ খাতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৫৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বিগত অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব কমেছে ৫০ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
পাথর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রোহিত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রামকৃঞ্চ চক্রবর্তী জানান, ভারতের ঘোজাডাঙ্গা এলাকায় সিরিয়ালের নামে পাথর বোঝাই ট্রাকে ট্রাকপ্রতি ৩৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নেয়া হচ্ছে। আর চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ১৫ থেকে ২০ দিন পাথর বোঝাই ট্রাক আটক রাখা হচ্ছে।
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য সাবেক আহ্বায়ক শেখ এজাজ আহমেদ স্বপন জানান, ভারতের কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মী ঘোজাডাঙ্গা এলাকায় সিরিয়ালের নামে প্রতি ট্রাকে ৩৫ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদাবাজি বন্ধে দুই দেশের কাস্টমস ও বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি বা ব্যবসায়ী সংগঠনে লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন পাথর আমদানিতে রাজস্ব কমে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ব্যবসায়ীদের যে কোনো আমদানির ওপর নির্ভর করে মূলত রাজস্ব কম-বেশি হয়। তবে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় সম্প্রতি এ বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি কমে গেছে। আর আমদানি কমার কারণে এ পণ্য থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমেছে বলে জানান তিনি।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//