
নেত্রকোনা প্রতিনিধি: এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড় ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা। পর্যটকদের এমন পদচারণায় যেনো মুখর প্রতিটি স্থান। এভাবেই দীর্ঘ ক্লান্তি কাটিয়ে আবারো পুরোদমে জমতে শুরু করেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের পর্যটন স্পটগুলো। প্রকৃতির টানে ভ্রমণপিপাসুদের আগমন যেন দিন দিন বাড়ছে সুসং দুর্গাপুরে। পাহাড়, নদী অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগে পর্যটকদের ভিড় বলে দিচ্ছে প্রকৃতির খুঁজে আসছে মানুষ। তাই চেনা স্থানেই বারবার ছুটে আসছেন পর্যটকরা।
গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে আসছেন মানুষ। ছোট-বড় বাস মিনিবাস মাইক্রোসহ ট্রাকে চেপেও মানুষদের আগমন ঘটছে। তবে মোটরসাইকেলই যেন পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট ছোট দলে করে বাইক রাইডার ছুটে আসছে।
তাইতো উপজেলা চিনামাটির পাহাড়, কমলা বাগান, বিজয়পুর রানীখং ও স্বচ্ছ পানির নদীর সোমেশ্বরীর প্রতিটি স্পটেই পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
এদিকে পর্যটকদের আগমনে আবারো মুখর হতে শুরু করেছে পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়িক দোকানগুলো। গত দু’বছর করোনায় স্থবিরতায় সবকিছু বন্ধ থাকায় লোকসান করলেও স্থবিরতা কাটিয়ে এখন নতুন করে আবারো লাভের মুখ দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
ঈদের তৃতীয় দিনে রাজধানী শহর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট-বড় বিভিন্ন গাড়িতে পর্যটকদের আসতে দেখা গেছে দুর্গাপুরে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পর্যটকরা ক্লান্তি কাটাতে নেমেছেন সোমেশ্বরীর পানিতে। সাদা মাটির এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে দলে দলে ছুটে বেড়িয়েছেন পর্যটকরা। রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর সুসং দুর্গাপুরের চিনামাটির পাহাড়সহ প্রায় প্রতিটি স্পটে পর্যটকদের ভিড় অনেক। আশপাশের উপজেলা থেকে শুরু করে দূরদূরান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা। গত দুই দিনে প্রায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটেছে দুর্গাপুরে। পর্যটক আসায় এলাকার ছোট ব্যবসায়ীরা যারা কিনা দীর্ঘদিন করোনার প্রাদুর্ভাবে লোকসানের মুখে পড়েছিলেন তারাও এখন অনেকটাই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন। পাশাপাশি পর্যটকদের সুবিধার্থে প্রশাসনকে আরো জোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিবছরই পর্যটকরা এখানে এসে নানা রকম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এই ভোগান্তি গুলো কাটাতে বিশ্রামাগারসহ স্পটগুলোতে প্রয়োজনীয় শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
পর্যটকরা বলছেন, এই সুসং দুর্গাপুর প্রতিবারের মতো এবারো অপার সৌন্দর্য্যের হাতছানি দিয়ে পর্যটকদের ডাকছে। পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ এই মানুষ বারবার ছুটে আসছেন এখানে। এবার ঈদের লম্বা ছুটিতে মানুষের ভ্রমণের অন্যতম বিনোদনের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে সুসং দুর্গাপুরের পর্যটন স্পটগুলো। দুঃখের বিষয় এত সুন্দর স্থানেও পর্যটকদের বসা কিংবা টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা নেই। এক্ষেত্রে আরো উদ্যোগী হতে হবে। পর্যটকদের সেবার ব্যবস্থা না করা যায় তাহলে এখানকার পর্যটক সঠিক ভাবে বিকশিত হবে না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিব উল আহসান জানান, ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা এখানে আসছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে প্রতিটি পর্যটন স্পটে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ পর্যটকদের অসুবিধা না হয় সে বিষয়টি লক্ষ্য রাখছি। এছাড়াও একটি টিম সার্বক্ষণিক প্রতিটি পর্যটন স্পটগুলোত পর্যবেক্ষণ করছেন। পর্যটকদের আগমনকে ঘিরে বিশেষ করে চিনামাটির পাহাড়, বিজয়পুর, কমলা বাগানসহ প্রতিটি স্পটেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যৌথ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বিনিয়োবার্তা/এসএল//