
ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হচ্ছে। গত মার্চের আদলে এপ্রিলেও এ সংকুচনের মাত্রা বৃদ্ধি পয়েছে। জ্বালানি খাতের ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট, উৎপাদন কমে যাওয়া ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের উচ্চব্যয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর: দ্য গার্ডিয়ান।
মন্দার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মাত্রা উল্লেখ করে দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস জানায়, এপ্রিলে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। যেখানে মার্চে এর হার ছিল দশমিক ১ শতাংশ।
সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কভিড-১৯ সংক্রান্ত লকডাউনের পরে যুক্তরাজ্যের সেবা খাত, শিল্পোৎপাদন ও নির্মাণ খাত প্রথমবারের মতো সংকুচিত হয়েছে। দেশটির অর্থনীতিতে সেবা খাতের অবদান ৮০ শতাংশ। সরকারের টেস্ট অ্যান্ড ট্রেস স্কিম বন্ধ করে দেয়ার কারণে এপ্রিলে দেশটির অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ে। সে সময় এ খাত দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।
জ্বালানি খাতে তেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরবরাহ প্রকট আকার ধারণ করায় উৎপাদন খাতও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ে। দেশটির শিল্পোৎপাদন খাত দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। অন্যদিকে নির্মাণ শিল্পের পতন হয়েছে দশমিক ৪ শতাংশ। যেখানে ফেব্রুয়ারির ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটিতে নির্মাণকাজের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভালো মুনাফা অর্জন করতে পেরেছিল। হেয়ার ড্রেসিং বা চুলসজ্জা ও ফুড সার্ভিসের কারণে ভোক্তা পর্যায়ের পরিষেবা এপ্রিলে ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে কভিড-১৯ মহামারীর সংক্রমণের কারণে বিধিনিষেধ ও লকডাউনে এ খাতের বিকাশ করোনা পূর্ববর্তী অবস্থার নিচে ছিল।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যখন অর্থনীতির শ্লথগতির বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাপন ব্যয় মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ নির্ধারণে ব্যস্ত, তখন এ প্রতিবেদন প্রকাশ্যে এল। দেশটির লেবার পার্টির ছায়া চ্যান্সেলর র্যাচের রিভস বলেন, প্রতিবেদনে যে পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়েছে- তা খুবই উদ্বেগজনক। পাশাপাশি, যেসব পরিবার এখনো তাদের আর্থিক ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছে তাদের আরো দুশ্চিন্তায় ফেলবে।
অর্থমন্ত্রী রিশি সুনাক বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অর্থনীতের মন্থরগতি দেখতে পাচ্ছে। সেদিক থেকে যুক্তরাজ্য এ সমস্যার বাইরে নয়। আমি যুক্তরাজ্যের জনগণকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, দীর্ঘমেয়াদে জীবনযাপন ব্যয় কমাতে ও অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে আমরা পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে কাজ করছি। পাশাপাশি যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও পরিবার অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে রয়েছে তাদের সহায়তা প্রদান করছি।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//