Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Sunday, 19 Jun 2022 00:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক: পদ্মা সেতু বাংলাদেশে বহুমাত্রিক ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের বহুমাত্রিক ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে। পদ্মা সেতু কেন্দ্র করে বাংলাদেশে শিল্প বিপ্লব হবে। পদ্মার ওই পারে এখন নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। সেতুতে রেল যোগাযোগ চালু হলে ঢাকা থেকে কলকাতায় সংযোগ সহজ হবে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়বে।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত ‘শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু নির্মাণ: বিশ্ব ব্যবস্থায় বাংলাদেশ তথা উন্নয়নশীল দেশসমূহের এক যুগান্তকারী বিজয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে অংশ নেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ড. গোলাম রহমান, পানিসম্পদ ও জলবায়ুবিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক লাইফ লাইন রূপে কাজ করবে। বাণিজ্য, আঞ্চলিক বাণিজ্য, দক্ষিণ এশিয়ায় সংযোগ, শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠা, কৃষি সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু বাঙালির আত্মমর্যাদা এবং আত্মনির্ভরতার প্রতীক। জাতি হিসেবে এটি আমাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। এত আকাঙ্ক্ষার এ সেতু আর স্বপ্ন নয়, এখন বাস্তব। এটি আমাদের অহংকার।

ড. মসিউর রহমান বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে, বহু সময় অবকাঠামোগত প্রকল্প হচ্ছে। কিন্তু পদ্মা সেতুর মতো জটিল নদী ব্যবস্থায় প্রকল্প আগামী এক-দেড়শ বছরেও হবে না। বিশ্বব্যাংক এ রকম একটি বড় ও ইতিহাস প্রসিদ্ধ প্রকল্প থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেছে, আমরা বঞ্চিত হইনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, ২০০১ সালের ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় হয় উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি)। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়। মূল্যস্ফীতি ও নির্মাণকাজের সময় অতিরিক্ত কাজ যুক্ত হওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তিন গুণ ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিলে ওই সময়ে প্রকল্পের যে ব্যয় ধরা হয়েছিল সেই টাকাতেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় হয়নি।

ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, পদ্মা সেতুর ফলে সারা দেশে যোগাযোগ বিস্তৃত হলো। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। মোংলা-বেনাপোল বেশি ব্যবহার হবে। সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে। এ সেতু নির্মাণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন।

সেমিনারে পদ্মা সেতু নির্মাণের কারিগরি দিক নিয়ে বক্তব্য দেন পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা ও ডিজাইনের কাজে আমি যুক্ত ছিলাম। প্রথমদিকে মনে হচ্ছিল প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। এ সেতু থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। প্রি-ফিজিবিলিটি, ফিজিবিলিটি, ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং এসব আমরা শিখেছি।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//