
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের পুনরুদ্ধারের পথনকশা (রোডম্যাপ) বিষয়ে একটি গবেষণা সমীক্ষা পরিচালনা করার জন্য প্রাইসওয়াটারহাউজকুপারস (PwC) এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
গবেষনা সমীক্ষাটির উদ্দেশ্য হলো ২০২৫ সালের জন্য অন্তবর্তীকালীন রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ ২০৩২ সালের জন্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা এবং লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো অন্তর্ভূক্ত করে শিল্পের জন্য একটি কৌশলগত পথনকশা (রোডম্যাপ) ও সে অনুযায়ী একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা।
বিগত দু’দশকে এই খাতটি বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
গত দশকটি শিল্পের জন্য বেশ কিছু বড় বাধা-বিপত্তি এবং উন্নয়নের সুযোগ উপস্থাপন করেছে। একইসাথে এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তোরণ, কোভিডের তাৎক্ষনিক এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, শিল্পের নিয়ামকগুলোর পরিবর্তনশীলতা (বিশেষ করে ফ্যাশন বিশ্বে ম্যানমেইড ফাইবারের এর অংশ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়তে থাকা, টেকসই উন্নয়নের পথে শিল্পের ধাবিত হওয়া, সোর্সিং বেইসগুলোর বৈচিত্র্যকরণ) প্রভৃতি বিষয়গুলো শিল্পকে তার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে এবং উচ্চতর প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ গ্রহনে অনুপ্রাণিত করেছে।
এ ধরনের একটি প্রেক্ষাপটে গবেষণা সমীক্ষাটি পণ্য এবং বাজারের বৈচিত্র্য, প্রযুক্তির আপগ্রেডেশন, টেকসই/সবুজ উৎপাদনে শিল্পের রূপান্তর, আপস্ট্রিম ভ্যালুচেইনের অংশগুলোকে শক্তিশালী করা, দক্ষতা এবং অর্থায়নের সভজলভ্যতার উন্নয়নসহ শিল্পের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর জন্য কৌশল নির্ধারণ করবে।
সমীক্ষাটি বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিবন্ধকতাসমূহ এবং প্রতিযোগিতার উপাদানগুলোর মূল্যায়ন এবং কার্যকরী সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে বিশদভাবে গবেষনা করবে।
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন “বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন একটি সন্ধিক্ষনে রয়েছে, - শিল্পের একদিকে রয়েছে বিপূল সুযোগ এবং অন্যদিকে রয়েছে বিশাল চ্যালেঞ্জ। শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য আমাদেরকে আরও গবেষণা করতে হবে এবং তথ্যভিত্তিক (data-driven) কৌশল প্রনয়ণ করতে হবে। গবেষণাটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য গবেষণাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা এবং বাস্তবসম্মত কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করবে।”
পিডব্লিউসি বাংলাদেশ এর ম্যানেজিং পার্টনার, মামুন রশিদ, বলেন, “বিশ্ব পোশাক বাজারে সরবরাহে পরিবর্তন এবং ভোক্তাদের আচরণ পরিবর্তনের সাথে সাথে পোশাক শিল্পের জন্য নতুন পথ এবং সম্ভাবনা অন্বেষণ করার জন্য বিজিএমইএ এর এই উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন এবং সময়োপযোগী। এই উদ্যোগে সহায়তা প্রদান করতে পেরে পিডব্লিউসি আনন্দিত।”
মঙ্গলবার (২৮ জুন ২০২২) গুলশানস্থ বিজিএমইএ পিআর অফিসে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ এর পরিচালক আসিফ আশরাফ, পরিচালক আব্দুল্লাহ হিল রাকিব, পরিচালক ব্যারিষ্টার ভিদিয়া অমৃত খান এবং বিজিএমইএ স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ফরেন মিশন সেল এর চেয়ারম্যান শামস মাহমুদ, পিডব্লিউসি এর ব্যবস্থাপনা পরামর্শক (Management Consulting) এর নির্বাহী পরিচালক কৌস্তভ বসু (Kaustabh Basu), পরিচালক রুমেসা হোসেন (Rumesa Hussain) এবং মার্কেটস লিড, সারাহ করিম (Sarah Karim), পিডব্লিউসি বাংলাদেশ।
আইএফসি এর পার্টনারশিপ ফর ক্লিনার টেক্সটাইল প্রোগ্রাম (PaCT II program) এর অর্থায়নে এই গবেষণা সমীক্ষাটি পরিচালনায় ডেনমার্ক সরকার ডেনিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি ও বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের মাধ্যমে সহযোগিতা প্রদান করবে।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই/এসএএম//