
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি। এর মধ্যে সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পর্যটন খাত। সম্প্রতি নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমায় খাত পুনরুদ্ধারে নেমেছে দেশগুলো। এর জের ধরে পর্যটন খাতে টানা দুই বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে উঠে দেশের অর্থনীতি সচল রাখার উদ্যোগ নিয়েছে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচা। খবর এপি।
গত মাসে থাইল্যান্ডের ফুকেট প্রদেশে এক পর্যটন সম্মেলনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচা। নাটকীয়ভাবে মুখের মাস্ক খুলে সমবেত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কি প্রস্তুত? স্থানীয় সংবাদমাধ্যমদের দাবি, বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দিকে ইঙ্গিত করেই এ প্রশ্ন ছুড়েন থাই প্রধানমন্ত্রী।
কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় ভ্রমণে আগ্রহ বেড়েছে পর্যটকদের মধ্যে। এর জন্য গ্রীষ্মকালকে পর্যটকদের জন্য প্রতিশোধের মৌসুম বলে দাবি করছেন বিশ্লেষকরা। ব্যাংককের খাও সান রোড বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাংগা রুয়াংওয়াট্টানাকুল বলেন, পুনরুদ্ধারের পথ বেশ দীর্ঘ। তবে আমরা অন্ততপক্ষে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছি।
এদিকে ভ্রমণ বাড়লেও বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পরও ছিল নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও শঙ্কার ছায়া। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ২০২৪ সালের আগে খাতটির সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার হওয়া সম্ভব নয়। মূল্যস্ফীতিসহ সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি ও শ্রম সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ছিল।
থাই পর্যটকদের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন আকাশ ভ্রমণ চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হয়। মহামারীতে উড়োজাহাজ সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলো নিজস্ব সক্ষমতা সীমিত করে। ফলে গ্রীষ্মকালে ভ্রমণ চাহিদা মেটাতে হিমশিম খায় সংস্থাগুলো। এতে করে ধারাবাহিকভাবে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটে।
কভিড-১৯ মহামারী ছাড়াও বিশ্বে নতুন সংকট যোগ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে মূল্যস্ফীতির হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, মহামারীর পর এটিই হতে পারে প্রধান বাধা।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থার প্রধান বাজার বিশ্লেষক সান্দ্রা কারভো বলেন, সত্যি বলতে আশঙ্কার মৌসুম হলো শরত্কাল। মূল্যস্ফীতির হার, বিশেষ করে সুদের হার ক্রমাগত এভাবে বাড়তে থাকলে ব্যয়ের বিষয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে পরিবারগুলোর।
এদিকে বিধিনিষেধ শিথিল হলেও ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি এখনো কাটেনি। সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন বিভাগের অধ্যাপক সাইমন হাডসন জানান, ছুটিতে ভ্রমণের জন্য মানুষ স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।
তবে ইতিবাচক দিকও আছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। এর মধ্যে মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এ বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সবচেয়ে বেশি ছিল। ওই মাসে ভ্রমণ ২০১৯ সালের ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার পূর্বাভাস বলছে, এ বছরের শেষ নাগাদ এ হার ৭০ শতাংশে পৌঁছবে। এর মধ্যে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, মেক্সিকো ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোয় ইতিবাচক চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। বৈশ্বিক সম্ভাবনায় আশায় বুক বাঁধছে থাইল্যান্ডের মতো পর্যটননির্ভর দেশও। এক্ষেত্রে এক নতুন সংকট জুড়েছে চীনের লকডাউন। ২০১৯ সালে থাইল্যান্ডে বিদেশি পর্যটকদের এক-চতুর্থাংশ ছিল চীনা পর্যটক। করোনাপূর্ব সময়ে দেশটিতে বার্ষিক চার কোটির বেশি বিদেশি পর্যটক আসতেন।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//