Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Tuesday, 12 Jul 2022 00:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বন্দরে নির্মিত হয়েছে নতুন কনটেইনার টার্মিনাল। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নির্মাণের প্রায় ১৬ বছর পর এ টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে শুরু হয় এটির নির্মাণকাজ। একসঙ্গে তিনটি জাহাজ বার্থিং ও বছরে সাড়ে চার লাখ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সক্ষম পতেঙ্গা 

কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) বন্দরের সক্ষমতা অনেকাংশে বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাকি কাজ শেষে শিগগিরই এ টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ শুরু করতে চায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, নতুন কনটেইনার টার্মিনালের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাকি কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে দিনরাত কাজ চলছে।

জানা গেছে, এ প্রকল্পে কাজ করছে সাতটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে এক হাজার ২৩০ কোটি টাকায় এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। একসঙ্গে ১৯০ মিটার লম্বা ও ১০ দশমিক পাঁচ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের অংশ) তিনটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ভিড়ানো সম্ভব এটির ৬০০ মিটারের জেটিতে। ৩২ একর জমিতে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পে ব্যাকআপ ইয়ার্ড প্রায় ১৬ একর। যেখানে কনটেইনার ধারণক্ষমতা চার হাজার ৫০০ টিইইউস।

এ প্রকল্পে এক লাখ ১২ হাজার বর্গমিটারের আরসিসি পেভমেন্ট (অভ্যন্তরীণ ইয়ার্ড ও সড়ক), দুই হাজার ১২৮ বর্গমিটার কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন (সিএফএস) শেড, ছয় মিটার উঁচু এক হাজার ৭৫০ মিটার কাস্টমস বন্ডেড ওয়াল, পাঁচ হাজার ৫৮০ বর্গফুটের পোর্ট অফিস ভবন, এক হাজার ২০০ বর্গমিটারের যান্ত্রিক ও মেরামত কারখানা, বিমানবন্দরগামী গাড়ি চলাচলের জন্য ৪২০ মিটারের ফ্লাইওভার, চার লেনের পৌনে এক কিলোমিটার এবং ছয় লেনের এক কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।  

পিসিটির জেটি নির্মাণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে পাইলিংয়ের কাজ। চীন থেকে অত্যাধুনিক পাইল ড্রাইভিং শিপ এনে করা হয়েছিল টেস্ট পাইলিং। মালয়েশিয়া থেকে আনা হয়েছিল ৩০-৩৮ মিটার দীর্ঘ দশমিক নয় মিটার ব্যাসের এক হাজার পাইল।

বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে এনসিটি ও সিসিটির দূরত্ব ১৪-১৫ কিলোমিটার হলেও পিসিটির দূরত্ব মাত্র ছয় কিলোমিটার। এখানে ড্রাফট ১২ মিটার। পিসিটি পরিচালনায় অপারেটর হিসেবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেশকিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠান। চূড়ান্ত কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানই কনটেইনার ও শিপ হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট নিয়ে আসবে। এতে করে বন্দরের সাশ্রয় হবে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা।  

পিসিটি প্রকল্পের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান সরকার বলেন, পিসিটির প্রধান কাজ ছিল জেটি নির্মাণ। এ কাজটি আমরা শতভাগ শেষ করেছি। এখন পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের প্রায় ৯৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখন আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার ট্যাংক, প্রশাসনিক ভবনের পাশে ওভারহিট ওয়াটার ট্যাংক ও ইয়ার্ড কনস্ট্রাকশনের কাজ চলছে। ইয়ার্ডের কাজও প্রায় ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে অপারেশন শুরু করা যাবে বলে আশা করছি।

বিনিয়োগবার্তা/এসএল//