
খুলনা প্রিতিনিধি: পদ্মাসেতু চালু হওয়ায় হযরত খানজাহান আলী (র.) স্মৃতি ধন্য বাগেরহাটের ষাটগম্বুজে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হওয়ায় পর্যটক বাড়ছে বাগেরহাটে।
দেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যের মধ্যে দুটিই বাগেরহাটে অবস্থিত। একদিকে সুন্দরবনের অপার সৌন্দর্য, অপরদিকে ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ। রয়েছে ইউনেস্কো ঘোষিত ১৭টি স্থাপনা। সবকিছু মিলিয়ে বাগেরহাটের পর্যটন শিল্পে এরইমধ্যে পদ্মাসেতুর সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। পদ্মাসেতুর ফলে ঢাকা থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় বাগেরহাটে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। যে কারণে ঈদুল আজহার ছুটিতে অনেকেই ছুটে এসেছেন বাগেরহাটে।
সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ আহরণ ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ১ জুন থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বনবিভাগ। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা চলবে।
বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের বিশাল মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ২০১৯ সাল থেকে বনবিভাগ প্রতি বছরই নদী-খালে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ রেখে আসছে। জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এ তিন মাস মাছের প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনের নদী, খাল ও বিলে থাকা বেশির ভাগ মাছের ডিম থেকে জন্মায় বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এ সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সুন্দরবনের নদী-খালে যেমন মাছ বাড়বে, তেমনি অন্য প্রাণী ও উদ্ভিদসহ জীববৈচিত্র্যের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সুন্দরবনে প্রবেশ নিষেধ থাকায় বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে ভিড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন সুন্দরবন খোলা থাকলে পর্যটনে ভরা থাকতো গোটা বন।
ছুটির স্বল্পতা, করোনা, বর্ষা আর বন্যাসহ বিভিন্ন কারণে দেশের অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলো যেখানে ভুগছে পর্যটক সঙ্কটে, সেখানে পর্যটকের কমতি নেই বাগেরহাটের ষাটগম্বুজে। আর এর আসল কৃতিত্ব সবাই দিচ্ছে স্বপ্নের পদ্মাসেতুকেই। একবার হলেও পদ্মাসেতু দর্শনের ইচ্ছা থেকেই দক্ষিণাঞ্চলমুখী এবার দেশের পর্যটকরা। পদ্মাসেতু দর্শনে এসে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক নিসর্গের স্বাদও সঙ্গে করে নিয়ে ফিরছেন তারা।
তবে বাগেরহাটে হোটেল-মোটেলসহ আধুনিক আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় কিছুটা বিম্বনায় পড়ছেন পর্যটকরা।
ঢাকার মিরপুর থেকে ষাটগম্বুজে আসা তামান্না বিনতে বলেন, ইচ্ছে থাকলেও ফেরির বিড়ম্বনার ভয়ে বাগেরহাটে আসিনি। পদ্মাসেতু খুলে দেওয়ায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখলাম, খানজাহানের মাজার দেখলাম। আমার অনেক ভালো লেগেছে।
ঢাকা থেকে ষাটগম্বুজ মসজিদে পরিবার নিয়ে ঘুড়তে আসা মম চৌধুরী বলেন, ‘এ বছর ঈদের ছুটিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি মসজিদের শহর বাগেরহাটে। পদ্মাসেতু খুলে দেয়ার পর এখন যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনেক ভালো। ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখলাম, খানজাহানের মাজার দেখলাম। আমার অনেক ভালো লেগেছে। এক কথায় বলতে গেলে বাগেরহাটের সব কিছু আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। আমাদের দেশে দেখার মতো যে অনেক কিছু আছে, এখানে না আসলে বুঝতাম না। এছাড়া ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণে শিশুদের জন্য নানা ধরনের রাউডের ব্যবস্থা আছে। আমার ছেলে-মেয়েদেরও জায়গাটা খুব পছন্দের।’
রহিম উদ্দিন নামে আরেক দর্শনার্থী বলেন, ঈদের ছুটিতে নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ হলো হযরত খানজাহানের একটি অন্যন্য স্থাপনা। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মসহ সবার এ মসজিদটি দেখতে আসা উচিত।
হেলপজোন টুরস অ্যান্ড ট্যাভেলস-এর সমন্বয়ক শেখ সায়মন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ষাটগম্বুজসহ বাগেরহাটের দর্শনীয় স্থানগুলোতে অনেক দর্শনার্থী এসেছেন। আমাদের ধারণা ষাটগম্বুজ, মাজার, চন্দ্রমহল, কোদলা মঠ, চুনখোলা মসজিদসহ বাগেরহাটের অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে লক্ষাধিক দর্শনার্থী এসেছেন গত তিন-চার দিনে। পদ্মাসেতু চালু হওয়ায় এবং সুন্দরবন বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন সায়মন।
প্রত্মতত্ত্ব অধিদফতর, বাগেরহাটের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, ঈদের ছুটিতে ষাটগম্বুজ মসজিদসহ জেলার ঐতিহাসিক সব স্থাপনাগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ঘুরতে আসা এসব পর্যটকদের জন্য ২০ জন আনসার সদস্য ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//