Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Thursday, 14 Jul 2022 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিয়মিত সফরের অংশ হিসেবে আজ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে আসছে। এবারে সরকার পক্ষের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় সংস্থাটি থেকে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ, যা বাজেট সহায়তা আকারে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গিয়েছে, আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রাহুল আনন্দ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। সফরকালে দলটি অর্থ মন্ত্রণালয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে।

সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে ঋণ চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার প্রত্যাশা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইএমএফের ঋণ নেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। তাই আইএমএফ প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরে ঋণ নেয়ার বিষয়টি আলোচ্য সূচিতে থাকছে। তবে ঋণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনেকটা নির্ভর করবে আইএমএফের দেয়া শর্তের ওপর।

জানা গিয়েছে, আইএমএফ থেকে ঋণের বিষয়ে এর আগেও আলোচনা হয়েছিল। তবে সরকার সম্মত হতে পারেনি এমন বেশকিছু শর্তের কারণে সে আলোচনা আর এগোয়নি। বরাবরই বাজেট ভর্তুকি কমিয়ে আনার পরামর্শের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো ও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার শর্ত দিয়ে থাকে।

গত বছরের অক্টোবরে আইএমএফ সারা বিশ্বে করোনার সংকট মোকাবেলায় ১৯০টি সদস্য দেশের জন্য ৬৫০ বিলিয়ন ডলার সমমানের এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) ঘোষণা করে। যার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু সরকার ওই সময় এসডিআর নেয়নি।

জানা গিয়েছে, গত বছর বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় ছিল। আমদানির চাহিদা কম থাকায় এবং রেকর্ড রেমিট্যান্স আসায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের পরিমাণ ৪৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর শুরু হয় নতুন সংকট। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বেড়ে যায় জ্বালানি তেলের দাম। এখন কমতে শুরু করলেও নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছিল অস্বাভাবিক হারে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বাড়ছে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে আসছে। ফলে চাপ বেড়েছে রিজার্ভে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আইএমএফ থেকে বাজেট সহায়তা হিসেবে ঋণের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ার অন্যতম কারণ দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসা।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভ নেমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯৭৭ কোটি বা ৩৯ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে। বাংলাদেশ গত সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নকে (এসিইউ) ১ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আমদানি পেমেন্ট নিষ্পত্তি করেছে। এতে প্রায় দুই বছর পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

আঞ্চলিক লেনদেনের জন্য আমদানি লেনদেন নিষ্পত্তি করে এসিইউ। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা এসিইউর সদস্য। আমদানির অর্থ ব্যাংকগুলো নিয়মিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা করে। দুই মাস পরপর এসিইউকে বিল পরিশোধ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রফতানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ কমছে। যদিও এর আগে রিজার্ভের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা রিজার্ভ গত বছরের আগস্টে প্রথমবারের মতো ৪৮ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। চলতি বছরের শুরুতে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারে। সদ্য সমাপ্ত ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষ দিন রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

আমদানি বেড়ে যাওয়া ও প্রবাসী আয় কমার কারণে দেশে ডলারের চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে পতন হচ্ছে টাকার মান। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা দরে। মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ৭৬২ কোটি ১০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিপরীতে বাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার মতো তুলে নেয়া হয়েছে।

২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু এর পর থেকে বড় ধরনের আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে ডলার সংকট শুরু হয়, যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//