
কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত আবারো পর্যটকে টইটম্বুর হয়ে উঠেছে। ঈদুল আজহার পর কক্সবাজারে পর্যটকের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে খোশমেজাজে আছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
চলতি সপ্তাহে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন। শুক্রবার পর্যটকের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতসহ অন্য পর্যটন স্পটগুলো।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য মতে, ঈদের দিন থেকে প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজারে পর্যটক আসেন পাঁচ লাখেরও বেশি। আর শুধু শুক্র-শনিবার এই দুইদিনে সেই সংখ্যা ছুঁয়ে যাচ্ছে প্রায় দুই লাখ।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার জানান, শুক্রবার কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন। কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল গেস্টহাউস-রেস্টহাউসের ৯০ শতাংশ কক্ষ ভাড়া হয়ে গিয়েছে। এর অন্যতম কারণ প্রতিটি হোটেলে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট চলছে।
পটুয়াখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যাপক আজিজুর রহমান জানান, তিনি দীর্ঘ চার বছর পর পরিবার নিয়ে কক্সবাজার এসেছেন। এ চার বছরে কক্সবাজার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা সবক্ষেত্রে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। ইনানী, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, রামু বৌদ্ধ মন্দির ও বিহার মনের আনন্দে ঘুরেছেন। কোথাও কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়নি।
শুক্রবার বিকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার জুড়ে ছিল মানুষ আর মানুষ। পর্যটকরা সৈকতে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ছিলেন।
কুমিল্লার দম্পতি আইরিন আফরোজ ও নুরুল হুদা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তারা কক্সবাজার এসেছেন। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আর প্রচণ্ড গর্জন তাদের মুগ্ধ করেছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, ঈদের সপ্তাহে কক্সবাজারে সাড়ে পাঁচ লাখ পর্যটক ভ্রমণে আসেন। এর মধ্যে গত শুক্রবার পর্যটকের সংখ্যা ছিল লাখের কাছাকাছি। এর পরের সপ্তাহেও প্রচুর পর্যটক এসেছেন।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী জানান, ঈদের পরের ছয়দিনে পর্যটন খাতে ৫৮৯ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। দীর্ঘ মন্দার পর ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তিবোধ করছেন। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পর্যটকের উপস্থিতি থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ জানান, বিভিন্ন কারণে কক্সবাজারে দিনদিন পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনুকূল পরিবেশ, নিরাপত্তা, কক্সবাজারের পর্যটন খাতে ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন নতুন পর্যটন স্পট তৈরি হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//