
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: আট বছর ধরে ডিজিটাল ইউয়ান চালুর ট্রায়াল চলাচ্ছে চীন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাইলট প্রোগ্রামটি ২৩টি শহরে প্রসারিত করা হয়েছে। বর্তমানে জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে ডিজিটাল মুদ্রাটি চালু করা অধরাই রয়ে গিয়েছে। কারণ এরই মধ্যে আলিপে ও উইচ্যাটপের মতো মোবাইল পেমেন্টে অভ্যস্ত চীনারা তাদের পরিচিত অ্যাপ ত্যাগ করার কোনো কারণ দেখছে না। খবর নিক্কেই এশিয়া।
ডিজিটাল ইউয়ান ব্যবহার করা অনেকটা মোবাইল পেমেন্টের মতোই বলছেন ব্যবহারকারীরা। চীনের ফুজোতে একটি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠানের মালিক লিন বলেন, আমি আমার আশপাশের খাবারের দোকানে ডিজিটাল ইউয়ান ব্যবহার করে অর্থ প্রদান করতে সক্ষম হয়েছি। এটি মোবাইল পেমেন্টের থেকে আলাদা নয়।
গত মার্চে একটি সভায় পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি) তার পাইলট প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী শহরের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে। শহরগুলোর বাসিন্দারা ডিজিটাল ইউয়ান ব্যবহার করে কেনাকাটা এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্টের অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। তিয়ানজিন, চংচিং ও হ্যাংজোসহ ফুজো শহরগুলো নতুন সংযোজনের আওতার মধ্যে ছিল।
একটি পিবিওসি টাস্কফোর্স ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে কাজ শুরু করে। এরপরে ২০২০ সালের অক্টোবরে শেনজেনে মুদ্রাটির ব্যবহার শুরু হয়। গত বছরের শেষ নাগাদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অ্যাপে ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরি করা চীনা নাগরিকের সংখ্যা ২১ কোটি ৬০ লাখে দাঁড়িয়েছে। এ সংখ্যা দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ।
চীনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, আমরা পেমেন্টের তথ্য প্রক্রিয়াকরণে পিছিয়ে থাকার মতো চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। তবে চূড়ান্তভাবে মুদ্রাটি চালু করার কোনো সময়সীমা দিতে পারেনি সূত্রটি।
অনেকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিকের পরে ডিজিটাল ইউয়ান চালু করা হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
গ্রাহক বাড়াতে মুদ্রাটি হিমশিম খাচ্ছে। কারণ ব্যবহারকারী এ মুদ্রা ব্যবহারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপের সামান্য পার্থক্য দেখতে পান। একটি অনুমান অনুসারে, চীনে সব খুচরা কেনাকাটার প্রায় ৮০ শতাংশ উইচ্যাটপে ও আলিপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যদিও এসব অ্যাপের তুলনায় ডিজিটাল ইউয়ানের কিছু সুবিধা রয়েছে। ডিজিটাল ইউয়ান পেমেন্ট খুচরা বিক্রেতাদের কোনো ফি দিতে হয় না। পাশাপাশি নেয়ার-ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) ব্যবহার করে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই লেনদেন করা যেতে পারে। তার পরও এ সুবিধাগুলো সাধারণ অ্যাপ থেকে গ্রাহকদের স্থানান্তরিত হতে প্ররোচিত করার মতো যথেষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতিতে মার্চের বৈঠকে পিবিওসি জানিয়েছিল, ডিজিটাল ইউয়ানের সুবিধা ও উদ্ভাবন নিয়ে আরো কাজ করতে হবে।
চীনা সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, চীন অন্য প্রধান অর্থনীতির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এজন্য ডিজিটাল ইউয়ান চালু করতে তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই।
কিছু উদীয়মান অর্থনীতিও আনুষ্ঠানিকভাবে ডিজিটাল মুদ্রা চালু করেছে। ব্যাংক অব জাপানও ডিজিটাল ইয়ান ট্রায়াল শুরু করেছে। দেশটির রেইতাকু ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাসাশি নাকাজিমা বলেন, ডিজিটাল মুদ্রা এমন কিছু নয় যে এটি বাস্তবে পরিণত করতে ১০ বছর লেগে যাবে।
এ মুদ্রা কাগজের অর্থ ছাপানো ও কয়েন তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যয় দূর করবে। পাশাপাশি সরকারি ডিজিটাল মুদ্রার কাগজের যাত্রা ছেড়ে দেবে, যা অপরাধীদের ধরা সহজ করে তুলবে।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//