
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মকর্তাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করে যেতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারো সমালোচনায় কান না দিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। আর সেসব মোকাবেলায় তাদের সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার ওপর দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার ফল সারা বিশ্ব ভোগ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কভিডের পর এ যুদ্ধ সবাইকে ভুক্তভোগী বানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ একটি সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের সার, খাদ্য, জ্বালানি তেল কেনা—সব ক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু আমরা না, পুরো বিশ্বই একটা দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছে। আমাদের দেশে যেমন মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, উন্নত দেশগুলোতে অনেক বেশি মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে।
সরকারপ্রধান বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা শুধু আমরা বলছি না, উন্নত দেশগুলোও বলছে। তার পরও আমি মনে করি, আমাদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন বলেই আমরা অনেক দেশের থেকে ভালো অবস্থানে এগিয়ে যাচ্ছি। তবু ভবিষ্যৎ চিন্তা করে আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে। আমাদের মিতব্যয়ী হতে হবে। অহেতুক যেন অপচয় না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের পত্রপত্রিকা হয়তো নানা কথা লিখবে, টক শোতে অনেক কথা বলবে। বিরোধী দল সমালোচনা করবে। বিরোধী দল বলবেই, কথা বলাই তাদের কর্তব্য; তারা বলে যাক। আমাদের আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে আমরা সঠিক পথে আছি কিনা, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছি কিনা, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি কিনা এবং দেশের সাধারণ মানুষ সেবা পাচ্ছে কিনা। সেগুলো যদি সব ঠিক থাকে তাহলে কে কী বলল সেটি কোনো বিষয় নয়। সমালোচনার মাধ্যমে আমরা বরং যাচাই করে নিতে পারি যে আমাদের কাজে কোনো ঘাটতি আছে কিনা।
এ সময় কাউকে হতাশ না হয়ে পড়তে, বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার মতো কিছু নেই। যখন যে অবস্থা হবে, সে অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই আমাদের চলতে হবে।
একই দিন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ সময় বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমি বলে দিয়েছি তারা যদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করতে আসে, পুলিশ যেন বাধা না দেয়। বিশেষ করে বাংলামোটরে যে বাধা দেয়া হয়, সেটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছি। আসুক না হেঁটে হেঁটে যতদূর আসতে পারে। কোনো আপত্তি নেই। আমি বসাব, চা খাওয়াব। কথা বলতে চাইলে শুনব। কারণ আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। তবে তারা যদি বোমাবাজি ও ভাংচুর করে তাহলে উপযুক্ত জবাব পাবে। কিন্তু গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কোনো বাধা নেই।
এ সময় খাদ্য সরবরাহ পুনরায় চালু করতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি করায় জাতিসংঘ মহাসচিব ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের উদ্যোগ বিশেষ করে জাতিসংঘের মহাসচিবের উদ্যোগের ফলে এখন ইউক্রেন ও রাশিয়া একটি চুক্তি করেছে। সার, খাদ্যদ্রব্য এগুলো যেতে দেবে। কৃষ্ণ সাগরে যে বন্দর বন্ধ রয়েছে, সেটাতে চলাচলের সুযোগ করে দেবে। খাদ্যদ্রব্য এখন আনা যাবে, কেনা যাবে। আমি মনে করি এটা আমাদের স্বস্তিকর বিষয়।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//