
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: শেষ পর্যন্ত বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমানের দেখানো পথেই হাঁটলেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর বর্তমান নেতৃত্ব। উত্তরায় নতুন ভবন নির্মাণকে পুঁজি করে সংগঠনের বর্তমান নেতারা তাঁদের কমিটির মেয়াদকাল ছয় মাস বাড়িয়ে নিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জে সংগঠনের প্রধান কার্যালয় নির্মাণের অজুহাতে গত বছর নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর কমিটির মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়ে নেন সংগঠনের সভাপতি ও সাংসদ সেলিম ওসমান। চলতি বছরের শুরুতে আবারও ছয় মাস সময় বাড়িয়ে নেন তিনি। ছয় বছরের বেশি সময় ধরে সংগঠনটির সভাপতি পদে আছেন এই ব্যবসায়ী।
জানা গেছে, বিজিএমইএর কার্যালয়ে গত সোমবার সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডাইরেক্টরস) সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। সভায় সংগঠনের বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। বিষয়টি এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠাবেন নেতারা।
বিজিএমইএর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২১ সেপ্টেম্বর। ছয় মাস সময় বাড়ানোর কারণে এখন কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্যরা আগামী বছরের ২২ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। সংগঠনের আগের কমিটি রানা প্লাজা ধসের পর পোশাকশিল্পের সংকটকালের সময়কে পুঁজি করে ছয় মাস সময় বাড়িয়েছিল। সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন আতিকুল ইসলাম।
কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাছির বলেন, ‘ভবন নিয়ে আমরা চাপে আছি। তাই উত্তরায় ভবন নির্মাণের কাজটি সম্পন্ন করতেই আজকের (গতকাল) পরিচালনা পর্ষদের সভায় কমিটির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। পরিচালকেরা এতে সম্মতি দিয়েছেন।’
ভবন নির্মাণ শেষ না হলে আগামী মার্চের পর আবারও কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না জানতে চাইলে মোহাম্মদ নাছির বলেন, ‘আমাদের কোনো ইচ্ছা নেই। তবে প্রয়োজন হলে কী করা হবে, সেটি বলার সময় এখন না।’
জমির স্বত্ব না থাকা ও জলাধার আইন লঙ্ঘন করে নির্মিত হওয়ায় রাজধানীর হাতিরঝিল প্রকল্পে সোনারগাঁও হোটেলের পাশের বিজিএমইএ ভবনটি ছয় মাসের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। গত ১২ মার্চ থেকে এই সময় গণনা শুরু হয়েছে। সেই হিসাবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভবনটি ছাড়ার বাধ্যবাধকতা আছে বিজিএমইএর।
পরে বিজিএমইএর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয় করার জন্য উত্তরায় তৃতীয় পর্বে ১১০ কাঠা জমি বরাদ্দ দেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সেখানে প্রাথমিকভাবে ছয়তলাবিশিষ্ট ইস্পাত বা প্রি-ফেব্রিকেটেড ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিজিএমইএ। তবে এখন জমি রেজিস্ট্রেশনের কাজই শেষ করতে পারেনি তারা।
কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বিকেএমইএর দেখানো পথে বিজিএমইএ কেন হাঁটছে—জানতে চাইলে সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বোর্ডের সব সদস্যের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়াদ বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি থাকতে চাইনি। সবার অনুরোধে বাধ্য হয়েছি।’
(এসএএম/ ১৮ জুন ২০১৭)